শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবুরির মৃত্যু, ছেলের রাষ্ট্রীয় পদক হাতে মায়ের আহাজারি
· Prothom Alo
নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে দায়িত্ব পালনকালে মারা যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি সাদিক হোসেনের (শুভ) মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অকালে ছেলেকে হারিয়ে ছেলের রাষ্ট্রীয় পদক হাতে নিয়ে আহাজারি করছেন মা লিলি বেগম।
Visit een-wit.pl for more information.
সাদিক হোসেনের বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কুমড়াকান্দি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা আশরাফ আলীর ছেলে।
সাদিক হোসেন নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর ফায়ার সার্ভিসে ডুবুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেনগতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ ফায়ারঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে জেটির সামনে কচুরিপানা পরিষ্কারের সময় নিখোঁজ হন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি সাদিক। প্রায় আট ঘণ্টা চেষ্টার পর সন্ধ্যা সাতটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের আরেক ডুবুরি নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন।
শীতলক্ষ্যায় কচুরিপানা পরিষ্কারের সময় নিখোঁজ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরির মরদেহ উদ্ধারপরিবার জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকায় ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ে আজ শুক্রবার সাদিক হোসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মরদেহ গোয়ালন্দে নেওয়ার পর বিকেল সাড়ে পাঁচটায় কুমড়াকান্দি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানে সাহসিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ গত ১৯ মে সাদিক হোসেনকে প্রেসিডেন্ট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (সেবা) পদক প্রদান করা হয়ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর ফায়ার সার্ভিসে যোগ দেন সাদিক। তিনি নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর ফায়ার সার্ভিসে ডুবুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানে সাহসিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে গত ১৯ মে তাঁকে প্রেসিডেন্ট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (সেবা) পদক দেওয়া হয়।
আজ সকালে সাদিকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে আছে। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন।
সাদিকের সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া রাষ্ট্রীয় পদক হাতে নিয়ে বিলাপ করছিলেন মা লিলি বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার সাদিককে দুই বছর আগে বিয়ে দিয়েছি। বউয়ের নাম সাদিয়া খাতুন। সাদিক আর সাদিয়া মিলেমিশে কত সুন্দর একটি সংসার করছিল। আমার ব্যাটার মতো এমন ব্যাটা পৃথিবীতে আর একটাও নাই। এত ভালো ব্যাটা আমার কীভাবে মরল?’
ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি সাদিক হোসেনলিলি বেগম আরও বলেন, ‘তিন দিন আগেও আমার ব্যাটার সঙ্গে ফোনে কথা হয়। এ সময় সাদিক জানায়, “মা, আমি আগামী রোববার বাড়ি আসতেছি। মা, আমার কাছে কোনো টাকা নাই। বাড়ি আসব, আব্বাকে পাঁচ হাজার টাকা পাঠাতে বোলো।” ওর বাবা পাঁচ হাজার টাকাও পাঠায়।’ সাদিক একজন প্রশিক্ষিত ডুবুরি হওয়ায় পানিতে ডুবে তাঁর মৃত্যু নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন মা। তিনি এ ঘটনার তদন্ত দাবি করেন।
সাদিকের মতো ভালো ছেলে এই অঞ্চলে দেখা যায় না বলে মন্তব্য করেন প্রতিবেশী ও গোয়ালন্দ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ফজলুল হক। তিনি বলেন, ‘আমরা তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। সাদিক দুই বছর আগে বিয়ে করেছে এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।’