রাজবাড়ীতে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে অর্ধশত পরিবার
· Prothom Alo

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় গড়ে ওঠা বালুর চাতালকে (বিশাল বালুর স্তূপ) কেন্দ্র করে জলাবদ্ধতার কারণে অর্ধশত পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে। বালুর চাতাল থেকে পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, উপজেলা শ্রমিক দলের এক নেতাসহ সরকারি দলের স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বালুর চাতাল থেকে বালু বেচাকেনা করেন।
Visit saltysenoritaaz.org for more information.
এদিকে বালুর চাতাল অপসারণের দাবিতে গত রোববার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বৃষ্টির মধ্যেই দৌলতদিয়া বাইপাস সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগীরা। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী বিভিন্ন যানবাহন ফেরি থেকে নেমে সড়কে আটকা পড়ে। পরে পুলিশের আশ্বাসে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।
স্থানীয় গৃহবধূ পপি বেগম বলেন, চাতালের পানিতে চারপাশ ডুবে গেছে। বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। টিউবওয়েল ও পায়খানা পানির নিচে। চুলায় পানি ওঠায় রান্নাও করতে পারছেন না।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সরোয়ার মোল্লা বলেন, বাল্কহেড থেকে পাইপে বালু খালাসের সময় কিছু পানি বের হয়। পাশের বড় গর্তে সেই পানি জমিয়ে সেচ পাম্পের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। মূলত ভারী বৃষ্টির কারণেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত পানি অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রোববার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতদিয়া বাইপাস সড়ক থেকে ৭ নম্বর ফেরিঘাট পর্যন্ত ছাত্তার মেম্বারপাড়ায় প্রায় ৫০টি পরিবার বসবাস করে। বাইপাস সড়ক ও ৭ নম্বর ফেরিঘাট সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে একাধিক বালুর চাতাল। বিভিন্ন এলাকা থেকে বালুবাহী বাল্কহেড ৬ নম্বর ফেরিঘাটে ভিড়িয়ে পাইপের মাধ্যমে বালু খালাস করা হয়। পরে সেই বালু সড়কের পাশে স্তূপ (চাতাল) করে বিক্রি করা হয়। স্থানীয় লোকজনের দাবি, বালু খালাসের সময় বিপুল পরিমাণ পানি বের হয়ে আশপাশে জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নিয়ামত আলী সরদার বলেন, ১২ বছর ধরে এখানে বসবাস করছেন। আগে বৃষ্টির পানি ছোট ডোবা দিয়ে নেমে যেত। কিন্তু দুই বছর ধরে বালুর চাতাল হওয়ার পর সারা বছরই পানি জমে থাকে। চাতালের পানিতে তাঁদের বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, রোববার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। বালুর চাতাল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পাশাপাশি দ্রুত পানিনিষ্কাশনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।