লাতিন আমেরিকায় যেভাবে বামপন্থীদের পরাজয় এবং ডানপন্থীদের উত্থান

· Prothom Alo

লাতিন আমেরিকাজুড়ে ডানপন্থী জনতুষ্টিবাদের পক্ষে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক বিপ্লব চলছে। আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, চিলি, পেরু এবং এখন কলম্বিয়া—সবখানেই বামপন্থীরা পরাজিত হয়েছে। এর মাধ্যমে এই মহাদেশে দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা বামপন্থী জোয়ারের অবসান ঘটল।

Visit h-doctor.club for more information.

আর্জেন্টিনায় উগ্র ডানপন্থী প্রার্থীদের এই নতুন ঢেউয়ের প্রথম প্রতিনিধি হিসেবে ২০২৩ সালের শেষের দিকে জয়ী হন হাভিয়ের মিলেই। তিনি রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসেন। ক্ষমতায় এসে মিলেই দেশটির অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছেন এবং লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্যের মধ্যে ঠেলে দিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে দিয়েছেন।

মিলেইকে সরাসরি সমর্থন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প এই উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক জোয়ারকে খোলাখুলিভাবে সমর্থন করছেন এবং এখন পুরো মহাদেশে তাঁর একদল মিত্র তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প তাঁর জাতীয় নিরাপত্তাকৌশল ২০২৫-এ উল্লেখ করেছেন, লাতিন আমেরিকা এখন পুরোপুরি মার্কিন প্রভাববলয়ের মধ্যে রয়েছে। এটি মূলত একটি নতুন ‘মনরো নীতি’, যার অধীনে এই মহাদেশে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হবে।

বাস্তবে এর অর্থ হলো, মিত্রদের সমর্থন দিতে এবং তাদের নির্বাচনে জেতাতে বৈধ-অবৈধ সব উপায়ে প্রকাশ্য ও গোপন হস্তক্ষেপ করা। এর পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার নিকোলা মাদুরোকে অপহরণ করার মতো সামরিক পদক্ষেপ এবং কিউবার ওপর চলমান নির্মম অবরোধ তো রয়েছেই।

এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা করলেই এর পেছনের সাধারণ উপাদান ও দেশীয় পার্থক্যগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

সাধারণ উপাদান

একদা শান্ত ইকুয়েডরে ভয়াবহ অপরাধের জোয়ার সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও ২০২৫ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী হয়েছেন কোটিপতি দানিয়েল নোবোয়া। ২০২৫ সালে ইকুয়েডরে ৯ হাজার ২১৬টি হত্যাকাণ্ডের রেকর্ড তৈরি হয়, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অথচ এক দশক আগেও দেশটিকে লাতিন আমেরিকার অন্যতম নিরাপদ দেশ মনে করা হতো।

গত নির্বাচনে বামপন্থী প্রার্থী লুইসা গঞ্জালেজ তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন। বেশির ভাগ জনমত জরিপে তিনি সমানে সমান থাকলেও দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চূড়ান্তভাবে পরাজিত হন।

নোবোয়া ইকুয়েডরের এই নিরাপত্তাসংকটকে কাজে লাগিয়ে ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন। তিনি জরুরি অবস্থা জারি করে রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর দমন–পীড়ন চালাচ্ছেন। ইকুয়েডরের পূর্ববর্তী বামপন্থী সরকার ওয়াশিংটনকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর, বর্তমান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সামরিক চুক্তি সই করেছে। এর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে লাখ লাখ ডলারের সামরিক সহায়তা দিচ্ছে।

বলিভিয়ায় বামপন্থী শ্রমিকনেতা ইভো মোরালেসের উত্তরসূরি লুইস আর্সের সরকার অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ভেঙে পড়ে। এর ফলে গত অক্টোবরের নির্বাচনে রক্ষণশীলরা জয়ী হয়। ২০১৯ সালে মোরালেসের বিরুদ্ধে একটি অভ্যুত্থান হয়েছিল, যা পরে গণবিক্ষোভের মুখে নস্যাৎ হয়ে যায়। এই নির্বাচনী বিজয় মূলত সেই ঘটনারই ধারাবাহিকতা।

আর্জেন্টিনা কেন তার এই ইতিহাস অস্বীকার করতে চায়  

নতুন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ জ্বালানি ভর্তুকি বাতিল, বড় জমির মালিকদের ক্ষুদ্র কৃষকদের জমি কিনে নেওয়ার সুযোগ তৈরি এবং সামাজিক খাতে বরাদ্দ কমানোর পদক্ষেপ নেন। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দিজ অঞ্চলের শ্রমিক ইউনিয়নগুলো টানা ধর্মঘট ও মহাসড়ক অবরোধ শুরু করলে পুরো দেশ অচল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাজ এখন জরুরি অবস্থা জারি করেছেন।

চিলিতে উগ্র ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত গত ডিসেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হন। তিনি একজন নাৎসি যুদ্ধাপরাধীর ছেলে। তিনি সাবেক ছাত্রনেতা গ্যাব্রিয়েল বোরিকের নেতৃত্বাধীন বামপন্থী সরকারের স্থলাভিষিক্ত হন। একটি সাংবিধানিক গণভোটে চিলির ৬২ শতাংশ মানুষ নতুন সংবিধানকে ‘অতিরিক্ত বামপন্থী’ বিবেচনা করে প্রত্যাখ্যান করার পর বোরিক জনপ্রিয়তা হারান। তা সত্ত্বেও বোরিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়িয়েছিলেন, পেনশনের উন্নতি করেছিলেন এবং ২০৬০ সাল পর্যন্ত চিলির লিথিয়াম উৎপাদনের আয়ের ৮৫ শতাংশ সরকারের ঘরে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি নিশ্চিত করেছিলেন।

চিলির সাবেক স্বৈরশাসক অগাস্তো পিনোশের ভক্ত কাস্ত অভিবাসনবিরোধী প্রচার চালিয়ে নির্বাচিত হন। তিনি বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজার হাজার অভিবাসীকে বিতাড়নের প্রতিশ্রুতি দেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন এবং সামাজিক কর্মসূচিগুলোতে বাজেট কাটছাঁট করেছেন।

পেরুতে সাবেক বামপন্থী প্রেসিডেন্টকে ডানপন্থী–নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস ক্ষমতাচ্যুত করে, যার ফলে বিক্ষোভে বহু মানুষ নিহত হন। এরপর জুনের শুরুতে অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি এক নির্বাচনে সাবেক স্বৈরশাসক আলবার্তো ফুজিদোরির মেয়ে কেইকো মাত্র ৪০ হাজার ভোটের ব্যবধানে বামপন্থী প্রার্থী রবার্তো সানচেজকে পরাজিত করেন। স্পেন ও জাপানে থাকা প্রবাসী ভোটারদের ভোটেই মূলত তিনি জয়ী হন।

সম্প্রতি সানচেজ প্রবাসী ভোটারদের ভোট গণনায় প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। এই ভোটগুলো উগ্র ডানপন্থী প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপকভাবে পড়েছিল।

আর কলম্বিয়ার কথা ধরলে, দেশটির বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ছিলেন এই মহাদেশের সবচেয়ে স্পষ্টভাষী বামপন্থী নেতা। ২০২২ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি লাখ লাখ মানুষের দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। তবে কলম্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী তিনি আর নির্বাচনে দাঁড়াতে পারতেন না।

গুস্তাভো পেত্রো ছিলেন কলম্বিয়ার ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত বামপন্থী নেতা। এর আগে দেশটিতে ৫০ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের মতো ফিলিস্তিনপন্থী অন্য দেশগুলোর তুলনায় পেত্রো কেবল মৌখিক বিরোধিতাই করেননি; বরং ইসরায়েলের গণহত্যার বিরুদ্ধে কয়লা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তা বাস্তবায়ন করেছিলেন।

ইউরোপে যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, লাতিন আমেরিকাতেও তারই একটি সংস্করণ দেখা যাচ্ছে। তা হলো, ক্রমবর্ধমান সামাজিক বৈষম্য এবং একটি মেরুকৃত সমাজে মধ্যপন্থী দলগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। সেখানে নতুন ধরনের ব্যক্তিত্বকেন্দ্রিক রাজনীতির উত্থান ঘটছে। এর নেতৃত্বে আছেন প্রতিষ্ঠানবিরোধী ব্যক্তিত্বরা। তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই মডেল বামপন্থীদের আদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীত।

কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট হয়েছেন উগ্র ডানপন্থী কোটিপতি আইনজীবী আবেলোর্দো দে লা এস্প্রিয়েয়া। রান-অফ নির্বাচনে তিনি বামপন্থী সিনেটর ইভান সেপেদাকে পরাজিত করেন। প্রাথমিক ভোট গণনায় দেখা যায়, এস্প্রিয়েয়া মাত্র ২ লাখ ৫০ হাজার ৮৩০ বেশি ভোট পেয়েছেন।

তবে বিরোধী দল ব্যালট ফরমে অসংখ্য অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট পেত্রো ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন।

দে লা এস্প্রিয়েয়া যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়ার দ্বৈত নাগরিক। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ জোট গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি ফ্লোরিডায় মার্কিন উগ্র ডানপন্থী রাজনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। ট্রাম্প এই বিজয়ে উল্লাস প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘আমি সমর্থন দিয়েছি বলেই ও জিতেছে।’

পেরু ও কলম্বিয়ার এই দুটি অত্যন্ত কাছাকাছি ভোটের ব্যবধান প্রমাণ করে যে সমাজগুলো এখন একেবারে দুই ভাগে বিভক্ত। পুরোনো মধ্যপন্থী লিবারেল ও কনজারভেটিভ দলগুলো এখন একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক।

মার্কিন হস্তক্ষেপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

প্রশ্ন হলো, রাজনীতির এই ডানপন্থী মোড় কীভাবে ঘটল?

২০২৫ সালে হন্ডুরাসের নির্বাচনে যা দেখা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সেই মার্কিন হস্তক্ষেপ এই উত্তরের একটি অংশ। ভোট কারচুপির বিষয়টি প্রমাণিত না হলেও একটি সন্দেহ রয়ে গেছে, যা বেশ কয়েকটি দেশে নির্বাচনব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাস তৈরি করার জন্য যথেষ্ট।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে টিকটক, এক্স (টুইটার) ও ইনস্টাগ্রামের মতো মার্কিন–নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্মগুলোতে স্মার্টফোনের এই নির্বাচনী যুদ্ধে বামপন্থীরা পিছিয়ে পড়েছে।

অভিবাসীদের প্রতি ভয় এবং সেটিকে অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলার কৌশলটি চিলির মতো দেশগুলোতে কার্যকরভাবে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

বামপন্থীদের সামাজিক কর্মসূচিগুলো হয়তো উল্টো একধরনের উচ্চাকাঙ্ক্ষী শ্রেণির জন্ম দিয়েছে, যারা আর সমাজতন্ত্র ও সহমর্মিতার আদর্শের সঙ্গে নিজেদের মেলাতে পারছে না। পেত্রো নিজেও এই কথা স্বীকার করেছেন। মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ার পর কিছু ভোটার এখন আর পেছনের দিকে তাকাতে চান না; বরং আরও বেশি সম্পদের মালিক হতে চান।

ইউরোপে যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, লাতিন আমেরিকাতেও তারই একটি সংস্করণ দেখা যাচ্ছে। তা হলো, ক্রমবর্ধমান সামাজিক বৈষম্য এবং একটি মেরুকৃত সমাজে মধ্যপন্থী দলগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। সেখানে নতুন ধরনের ব্যক্তিত্বকেন্দ্রিক রাজনীতির উত্থান ঘটছে। এর নেতৃত্বে আছেন প্রতিষ্ঠানবিরোধী ব্যক্তিত্বরা। তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।

এই মডেল বামপন্থীদের আদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ, বামপন্থীরা তাদের রাজনৈতিক প্রকল্প গড়ে তোলে গণ–আন্দোলন ও জনকল্যাণমূলক সামাজিক কর্মসূচির ওপর ভিত্তি করে, কোনো চরমপন্থী ব্যক্তিত্বের জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে নয়।

ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি নতুন জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আধিপত্যের স্বপ্ন এখন লাতিন আমেরিকায় বাস্তবে পরিণত হয়েছে। সে স্বপ্ন সংখ্যালঘু ও প্রগতিশীল ভোটারদের জন্য একটি দুঃস্বপ্ন।

বামপন্থীদের জন্য অগ্নিপরীক্ষা

তবে এই নতুন শাসকদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে; কারণ, বিশেষ করে যেখানে ভোটের ব্যবধান খুব কম ছিল, সেখানে নির্বাচনী কারচুপির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

এই নতুন উগ্র ডানপন্থী শাসকদের সামনে আরও একটি বড় সমস্যা রয়েছে। তাঁরা এমন কিছু দেশের শাসনভার হাতে পেয়েছেন, যেখানে সুসংগঠিত গণ–আন্দোলন রয়েছে। তাদের অনেকেরই জাতীয় পর্যায়ে সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে এবং তারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কষ্টার্জিত সামাজিক অধিকারগুলো সহজে কেড়ে নিতে দেবে না।

এর অর্থ হলো, এই মহাদেশ এখন একটি দীর্ঘস্থায়ী ও সম্ভাব্য অস্থিতিশীল শাসনব্যবস্থা এবং অস্থিরতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এটি মূলত বিংশ শতাব্দীর সেই বাম-ডান সংঘাতেরই এক একবিংশ শতাব্দীর সংস্করণ, যা অতীতে এই অঞ্চলে এত কষ্টের কারণ হয়েছিল।

আর এই সবকিছুর ওপর আবারও ছায়া ফেলছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। ট্রাম্প প্রশাসন ডানপন্থীদের ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে এবং তাদের সমর্থনে সব উপায়ে হস্তক্ষেপ করছে।

এই আঞ্চলিক রাজনৈতিক ভূমিকম্প এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

আগামী অক্টোবরে ব্রাজিলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রবীণ বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা কি তালিকায় যুক্ত হবেন? তিনি প্রথম ২০০২ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং পরে ২০২২ সালে আবার পুনর্নির্বাচিত হন।

মাত্র চার বছর আগে নব্য ফ্যাসিবাদী জইর বলসোনারো পরাজয় ও কারাদণ্ডের পর ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রণ যদি আবারও ডানপন্থীদের হাতে চলে যায়, তবে তা হবে প্রগতিশীলদের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা।

  • জো গিল লন্ডন, ভেনেজুয়েলা ও ওমানে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন। মিডল ইস্ট আই থেকে অনূদিত

Read full story at source