অস্ত্রধারীরা শনাক্ত হলেও খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ
· Prothom Alo

চট্টগ্রামের রাউজানে মাসুদুল হক চৌধুরী (৪৫) নামের এক যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে খুনের ঘটনায় অস্ত্রধারী কাউকে সাত দিনেও গ্রেপ্তার করা যায়নি। এতে হতাশ নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা। তবে পুলিশ বলছে, অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করা গেছে। গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
Visit catcross.biz for more information.
ঘটনার দুই দিন পর ১৫ জুন নিহত ব্যক্তির বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলা করেন। এতে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী ‘সন্ত্রাসী’ মোহাম্মদ রায়হান, তাঁর সহযোগী মোহাম্মদ ইলিয়াস, মোহাম্মদ মোবারক, দিদারুল আলম, মোহাম্মদ ইউসুফসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে আরও আটজনকে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিদের মধ্যে প্রথমে মাসুদুল হককে গুলি ছোড়েন ইলিয়াস ও দিদারুল। পরে ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার দৌড়ে গিয়ে মাসুদুলকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি গুলি ছোড়েন। ঘটনাস্থলটি রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাত্র কয়েক শ গজ দূরে। হত্যায় অংশ নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে একজনের মুখে কালো মুখোশ থাকলেও বাকিদের চেহারা স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।
১৩ জুন বেলা দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় মাসুদুল হক চৌধুরীকে। তিনি পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন।
১৩ জুন বেলা দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় মাসুদুল হক চৌধুরীকে। তিনি পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। তাঁর বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান। পরিবারের সদস্যরা জানান, পরবর্তী নির্বাচনে মাসুদুল ইউপি চেয়ারম্যান পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশের ধারণা, কর্ণফুলী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে মাসুদুলকে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মামলার আসামি রায়হান চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী। তাঁর বিরুদ্ধে নগর, জেলায় খুনসহ নানা অভিযোগে ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে। সন্ত্রাসী রায়হান বাহিনীর সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটান। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে তিনজনের হাতে ছিল পিস্তল, দুজনের কাছে শটগান।
—পেয়ারুল হক চৌধুরী, নিহত মাসুদুলের ভাইএক সপ্তাহ হলেও প্রকাশ্যে অস্ত্রধারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। ভাই হত্যার বিচার কি পাব না? কারা অস্ত্রধারীদের পাঠিয়েছেন, তাঁদেরও খুঁজে বের করতে হবে।আসামি ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ৫টি হত্যাসহ ১৮টি মামলা রয়েছে। ইউসুফের বিরুদ্ধে দুটি হত্যাসহ চারটি মামলা রয়েছে রাউজান থানায়। দিদার, জাহেদ ও আবছারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, মাসুদুল হক দৌড়াচ্ছেন। পেছনে অস্ত্রধারীরা। হঠাৎ পাহাড়তলীর চৌমুহনী বাজারের একটি দোকানের সামনে রাখা মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি। এ সময় পেছনে থাকা অস্ত্রধারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি করতে থাকেন। প্রথম দফায় গুলি করে ফিরে যাওয়ার ৪০ থেকে ৫০ সেকেন্ড পর গাড়িতে না উঠে পুনরায় এসে গুলি করেন। এরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে তাঁরা চলে যান। বাজারে দিনদুপুরে এ ঘটনা ঘটলেও কেউ এগিয়ে আসেননি।
মামলার বাদী নিহত ব্যক্তির বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এক সপ্তাহ হলেও প্রকাশ্যে অস্ত্রধারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। ভাই হত্যার বিচার কি পাব না? কারা অস্ত্রধারীদের পাঠিয়েছেন, তাঁদেরও খুঁজে বের করতে হবে।’
জানতে চাইলে অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘অস্ত্রধারীদের ধরতে পাহাড় ও সমতলে অভিযান চলছে। ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে ২৫টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৮টি হত্যাকাণ্ড হয়েছে রাজনৈতিক বিরোধ থেকে। একই সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ।