সতীর্থ জোতার স্মৃতিকে সঙ্গী নিয়েই খেলবেন রবার্টসন

· Prothom Alo

লিভারপুলের ড্রেসিংরুমে অ্যানফিল্ডের চেনা আলো-ছায়ার নিচে কত রাত তাঁরা গল্পে মেতেছেন। কত জয়ের উল্লাস, কত ব্যর্থতার দীর্ঘশ্বাস ভাগ করে নিয়েছেন দুজন। ফুটবলারদের জীবন তো আসলে এমনই—একই জার্সির নিচে লুকিয়ে থাকে হাজারটা না-বলা বন্ধুত্বের গল্প। অ্যান্ডি রবার্টসন আর দিয়োগো জোতার গল্পটাও ছিল ঠিক তেমনই। কিন্তু নিয়তি বড় নিষ্ঠুর চিত্রনাট্যকার।

Visit michezonews.co.za for more information.

গত বছরের ৩ জুলাই এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল লিভারপুলের পর্তুগিজ তারকা জোতাকে। অকালেই ঝরে গেল এক তাজা প্রাণ, স্তব্ধ হলো ফুটবল–বিশ্ব। কিন্তু স্মৃতিরা কি এত সহজে বিদায় নেয়?

কিছু মানুষ চলে গিয়েও আসলে থেকে যান। থেকে যান সতীর্থদের বুকের ভেতর, বন্ধুত্বের নিবিড় মলাটে। দিয়োগো জোতাও আছেন। আসন্ন বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেওয়ার আগে অ্যান্ডি রবার্টসনের হৃদয়ের অনেকটুকু জুড়ে এখনো তাঁর সেই প্রয়াত বন্ধু।

প্রিয় জোতা, এভাবে চলে যেতে নেই

সোমবার ফিফার ‘লেটার্স দ্যাট ইউনাইট’ উদ্যোগে প্রকাশিত হলো এক চিঠি। জোতার স্ত্রী রুতে কারদোসো এই আবেগঘন বার্তাটি পাঠিয়েছেন স্কটিশ ডিফেন্ডার রবার্টসনের উদ্দেশে। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে পাওয়া এই চিঠি যেন এক না-বলা গল্পের অবশিষ্টাংশ।

চিঠিতে রুতে লিখেছেন, ‘দিয়েগো প্রায়ই তোমার কথা বলত। তোমাদের গড়ে ওঠা বন্ধুত্বের কথা, একসঙ্গে লড়া অসংখ্য লড়াইয়ের কথা, নানা চ্যালেঞ্জ, হাসি-আনন্দ, ফুটবল ও স্বপ্ন নিয়ে করা দীর্ঘ আলাপের কথা বলত।’

জোতা ও তাঁর স্ত্রী রুতে

রুতের এই প্রতিটি শব্দ যেন অ্যানফিল্ডের সেই সোনালি দিনগুলোকে ফিরিয়ে আনছিল, ‘বিশ্বকাপ ছিল সেই স্বপ্নগুলোর একটি, যে স্বপ্ন তোমরা দুজন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লালন করেছ। ঠিক যে আবেগ, নিষ্ঠা আর ভালোবাসা নিয়ে তোমরা মাঠে নামতে, একই আবেগ নিয়ে এই স্বপ্নকেও বাঁচিয়ে রেখেছিলে।’

গত নভেম্বরে দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষা ফুরিয়ে যখন স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করল, রবার্টসন কিন্তু একা হাসেননি। তাঁর চোখের কোণে তখন চিকচিক করছিল জোতার স্মৃতি। রবার্টসন সে সময়ই বলেছিলেন, জয়ের আনন্দের প্রথম ভাগীদার হওয়া উচিত ছিল তাঁর এই প্রয়াত বন্ধুর। পর্তুগাল দলও তাদের বিশ্বকাপ দল ঘোষণার সময় বাড়তি সদস্য হিসেবে জোতার নাম রেখে শ্রদ্ধা জানিয়েছে এই ফুটবলারকে।

রুতে তাঁর চিঠিতে এই প্রসঙ্গটি টেনে এনে লিখেছেন, ‘স্কটল্যান্ড দীর্ঘ অপেক্ষার পর যখন বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করল, সেদিন তুমি কী বলেছিলে, তা আমি শুনেছি। উপলব্ধি করলাম, দিয়োগো আসলে কখনোই মাঠ ছেড়ে যায়নি। সে এখনো বেঁচে আছে তার বন্ধুদের স্মৃতিতে, সতীর্থদের হৃদয়ে এবং যাদের জীবনে সে ছাপ রেখে গেছে, তাদের সবার মাঝে।’

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ২৮ বছর বয়সী লিভারপুল ফরোয়ার্ড জোতা

রুতে রবার্টসনকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, তিনি একা নন। জোতাও থাকবেন তাঁর পাশে, ছায়ার মতো। চিঠির শেষ দিকে তিনি লিখেছেন, ‘সেই স্বপ্ন পূরণের মুহূর্তে পৌঁছে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে তুমি একা সেখানে যাচ্ছ না। দিয়োগোর স্বপ্নটাকেও সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছ।’

চিঠিটি পড়ার পর আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি রবার্টসন। আবেগাপ্লুত স্কটিশ অধিনায়ক বলেছেন, আসন্ন বিশ্বকাপে জোতার স্মৃতিকে সঙ্গী করেই তিনি মাঠে নামবেন। ২৮ বছর পর স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপের মঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার গৌরবময় মুহূর্তে তাঁর ভাবনার পুরোটা জুড়েই থাকবেন জোতা।

লড়াইয়ের আবহে দাঁড়িয়ে এই স্কটিশ ডিফেন্ডার এক অসামান্য ঘোষণাও দিলেন, ‘আমি শুধু নিজের জন্য খেলব না। আমি আমরা দুজনের জন্য খেলব।’

১৪ জুন হাইতির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে স্কটল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান। গ্রুপ ‘সি’তে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও মরক্কো।

Read full story at source