৪৮ দলের মহারণে আপনি কার পক্ষে

· Prothom Alo

আর মাত্র পাঁচ দিন। এরপরই শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎসব ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দল। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বকাপের উন্মাদনা। বিশ্বের নানা প্রান্তে সমর্থকেরা প্রস্তুত হচ্ছেন নিজেদের প্রিয় দলের পতাকা, জার্সি আর নানা আয়োজন নিয়ে বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মাততে।

Visit grenadier.co.za for more information.

এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন, ব্রাজিল ও ইংল্যান্ড। তবে শুধু এই পাঁচ দল নয়, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, পর্তুগাল, মরক্কো, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং নরওয়ের মতো দলগুলোও নিজেদের শক্তিশালী স্কোয়াডের কারণে আলোচনায় রয়েছে।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারও অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী। লিওনেল মেসিকে ঘিরে আবেগ থাকলেও দলটির মূল শক্তি এখন দলীয় সমন্বয়। জুলিয়ান আলবারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ,  আলেক্সিস ম্যাক এলিস্টার ও লাউতারো মার্তিনেজ দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে তাঁদের পারফরম্যান্স আর্জেন্টাইন সমর্থকদের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

ফ্রান্সকে অনেক বিশেষজ্ঞ এবারের সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর একটি মনে করছেন। কিলিয়ান এমবাপ্পে দলটির সবচেয়ে বড় তারকা। সঙ্গে ওসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিস, অরেলিয়াঁ চুয়ামেনিদের উপস্থিতি ফরাসিদের করেছে আরও ভয়ংকর।

স্পেনকে নিয়ে উত্তেজনা সবচেয়ে বেশি তরুণদের কারণে। লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, পেদ্রি, গাভি ও ফারমিন লপেজদের নিয়ে গড়া দলটিকে অনেক বিশ্লেষক এবারের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে বিবেচনা করছেন। ইউরো জয়ের আত্মবিশ্বাসও তাদের পক্ষে কাজ করবে।

ব্রাজিলের সমর্থকেরা দীর্ঘদিন ধরে আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষায়। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, ব্রুনো গুইমারেস, ক্যাসিমিরো, মার্কিউনিস, এনদ্রিককে ঘিরে গড়ে উঠেছে নতুন ব্রাজিল। আক্রমণভাগে বৈচিত্র্য ও গতি তাদের অন্যতম শক্তি। আর শেষ মুহূর্তে দলটির ইতিহাসের অন্যতম বড় তারকা নেইমারের অন্তর্ভুক্তি দলের প্রাণশক্তি বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।

ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে ইতিমধ্যে বিভিন্ন দলের জার্সি ও দেশের পতাকা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয়েছে উন্মাদনা। দেয়ালে আঁকা হয়েছে পছন্দের খেলোয়াড়ের মুখচ্ছবি। সেখানে প্রিয় দলের জার্সি পরে চলছে ফুটবলের কসরত। কে এম দাস লেন, টিকাটুলী, ঢাকা, ৩ জুন

ইংল্যান্ডও এসেছে দারুণ এক দল নিয়ে। জুড বেলিংহাম, বুকায়ো সাকা, ডেক্লান রাইসের মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া এই দলকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, কাগজে-কলমে ইংল্যান্ডের স্কোয়াড বিশ্বের অন্যতম সেরা।

জার্মানিও পিছিয়ে নেই। ফ্লোরিয়ান ভিরৎজ, জামাল মুসিয়ালা, কাই হাভের্তজ, ইয়োশুয়া কিমিশ ও আন্টোনিও রুডিগারদের নিয়ে তারা আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। সাম্প্রতিক সময়ে উইর্টজ ও মুসিয়ালার পারফরম্যান্স বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

নেদারল্যান্ডসের শক্তি তাদের ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড। ভ্যান ডাইকের নেতৃত্বে রক্ষণভাগ যেমন শক্তিশালী, তেমনি আক্রমণে রয়েছেন কোডি গ্যাকপো, জাবি সিমন্স ও টিজ্যানি রেইজনদেরসের মতো প্রতিভাবান ফুটবলার।

ফ্রান্সের শক্তি এমবাপ্পে, নাকি সবচেয়ে বড় দুর্বলতা

আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় মরক্কো। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়া দলটি এবারও শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে এসেছে। আশরাফ হাকিমি, ইয়াসিন বুনো, ব্রাহিম দিয়াস, সুফিয়ান আম্রাবাত ও ইউসেফ এন-নেসরিদের নিয়ে গড়া দলটি যেকোনো পরাশক্তির জন্য হুমকি হতে পারে।

এশিয়ার ফুটবলপ্রেমীদের আশা জাগাচ্ছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। জাপানের টেকফুসা কুবো, কাওরু মিটোমা ও ওয়াতারু এন্ডো রিতসু দোয়ান ইউরোপিয়ান ফুটবলে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সন হিউং-মিন, লি কাং-ইন, হোয়াং হি-চ্যান ও কিম মিন-জেইদের নিয়ে গড়া দলটি যে কাউকে চমকে দিতে পারে।

আরেকটি দলকে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই—নরওয়ে। যদিও বিশ্বকাপের ইতিহাসে তারা খুব বড় শক্তি নয়, তবে আর্লিং হলান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডের মতো দুই বিশ্বমানের তারকার উপস্থিতি তাদের বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ বানিয়েছে। সুযোগ পেলে যেকোনো বড় দলকে হারিয়ে দিতে পারে নরওয়েজিয়ানরা।

প্রথমবারের মতো তিন দেশ মিলে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করবে

বিশ্বকাপ শুরুর আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন, ব্রাজিল ও ইংল্যান্ড। ফুটবল বিশ্লেষক, সাবেক খেলোয়াড়, ক্রীড়া সাংবাদিক এবং বিভিন্ন পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাসে এই পাঁচ দলকেই সবচেয়ে বড় শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে শুধু আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন, ব্রাজিল কিংবা ইংল্যান্ডই নয়, এবারের বিশ্বকাপে আরও অনেক দল নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে মুখিয়ে আছে। আয়োজক দেশ মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগাতে চাইবে। ইউরোপের নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া এসেছে অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়ে ভরপুর স্কোয়াড নিয়ে। দক্ষিণ আমেরিকার উরুগুয়ে ও কলম্বিয়াও সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ছন্দে রয়েছে। আফ্রিকার মরক্কো ও সেনেগাল নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ আগেই দিয়েছে, আর এশিয়ার জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইরানও যেকোনো বড় দলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত। সব মিলিয়ে ৪৮টি দলই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার প্রত্যয়ে মাঠে নামবে।

কেউ হয়তো আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কেউ ব্রাজিলের হলুদ জার্সি কিনে ফেলেছেন। কেউ বিশ্বাস রাখছেন এমবাপ্পের ফ্রান্সে, আবার কেউ তাকিয়ে আছেন ইয়ামালের স্পেনের দিকে। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই মহাযজ্ঞে থাকবে আনন্দ, উচ্ছ্বাস, হতাশা, অশ্রু আর অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত। তাই এবারের বিশ্বকাপকে অনেকেই সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অনিশ্চিত বিশ্বকাপগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করছেন।

কারও ঘরের বারান্দায় হয়তো ইতিমধ্যেই উড়তে শুরু করেছে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা পতাকা, কেউ আবার তুলে রেখেছেন ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ জার্সি। আগামী এক মাস ফুটবল শুধু খেলা হয়ে থাকবে না, হয়ে উঠবে কোটি মানুষের আবেগ, উন্মাদনা আর পরিচয়ের অংশ। কেউ হাসবে বিজয়ের আনন্দে, কেউ কাঁদবে প্রিয় দলের বিদায়ে। জন্ম নেবে নতুন নায়ক, লেখা হবে নতুন ইতিহাস, আর কিছু মুহূর্ত চিরদিনের জন্য জায়গা করে নেবে ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতির পাতায়।

শিরোপার স্বপ্নে বিভোর ৪৮টি দল, কোটি সমর্থকের অগণিত প্রত্যাশা আর মাসব্যাপী ফুটবল উন্মাদনা। মহারণের মঞ্চ প্রস্তুত, অপেক্ষা শুধু প্রথম বাঁশির। ৪৮ দলের এই মহারণে কার পক্ষে আপনি?

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬–এ অংশগ্রহণকারী দলসমূহ
মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, কানাডা, বসনিয়া, কাতার, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল, মরক্কো, হাইতি, স্কটল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, প্যারাগুয়ে, জার্মানি, কুরাসাও, আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর, নেদারল্যান্ডস, জাপান, সুইডেন, তিউনিসিয়া, ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ে, ইরাক, আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান, পর্তুগাল, কঙ্গো, উজবেকিস্তান, কলম্বিয়া, স্পেন, কেপ ভার্দে, সৌদি আরব, উরুগুয়ে, ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা, পানামা, বেলজিয়াম, ইরান, মিসর ও নিউজিল্যান্ড।

বন্ধু, ভৈরব বন্ধুসভা

Read full story at source