ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক ব্যবসার অভিযোগে সালিসে এক ব্যক্তিকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন
· Prothom Alo

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় মাদক ব্যবসার অভিযোগে গ্রাম্য সালিসে এক ব্যক্তিকে মা ও স্ত্রীর সামনে চোখ-হাত বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের নারুই বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
Visit betsport.cv for more information.
নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির নাম অভি মিয়া (৪০)। তিনি নারুই গ্রামের প্রয়াত রহমত মিয়ার ছেলে। ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। অভি মিয়ার বিরুদ্ধে নবীনগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা আছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভি মিয়া দীর্ঘদিন ধরে নারুই গ্রামে মাদক ব্যবসা করেন। এতে এলাকার তরুণ ও যুবকেরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ। নারুই গ্রামের লোকজন একাধিকবার তাঁকে মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে বলেন; কিন্তু নিষেধ সত্ত্বেও তিনি মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্দেশ্যে নারুই বাজারে স্থানীয় মাদক নির্মূল কমিটির সালিস বৈঠক হয়। সেখানে মাদক ব্যবসার অভিযোগে অভি মিয়াকে হাজির করা হয়। পরে গামছা দিয়ে চোখ, দড়ি দিয়ে হাত-পা বেঁধে এবং হাঁটুর নিচে পাইপ ঢুকিয়ে মাটিতে ফেলে মধ্যযুগীয় কায়দায় মা ও স্ত্রীর সামনেই তাঁকে নির্যাতন করা হয়। নারুই গ্রামের মোকাররম হোসেন, মোহসিন মিয়া, তাজু মিয়া ও হানিফ মিয়া মেম্বারসহ কয়েকজন তাঁকে সবার সামনে নির্যাতন করেন। নির্যাতনের পর ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসা না করার মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
নির্যাতনের ৪ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রামের এক ব্যক্তি প্রথমে গামছা দিয়ে তাঁর চোখ বাঁধেন। একই ব্যক্তি দড়ি দিয়ে দুই হাত বেঁধে তাকে বাজারের ইটের সলিংয়ের মেঝেতে বসান। এ সময় আরেকজন ওই ব্যক্তির সহায়তায় এগিয়ে আসেন। দুই হাত বাঁধার পর হাঁটুর নিচে থাকা হাতের ফাঁকা অংশ দিয়ে পাইপ ঢোকানো হয়। পা থেকে জুতা খুলে অভি মিয়াকে মেঝেতে ফেলে রাখা হয়। পানি খাওয়ার কথা বললে এক ব্যক্তি তাঁকে পানি খাওয়ান। এরপর দুই ব্যক্তি অভি মিয়ার পা ধরে রাখেন এবং এক ব্যক্তি লাঠি দিয়ে তাঁর দুই পায়ে আঘাত করতে থাকেন। দেখা যায়, এ সময় অভি মিয়া আর্তনাদ করতে থাকেন। তখন নির্যাতনকারী ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘দুইবার পুলিশে দিছি, তুই কার হাতে টাকা দিছস তোরা ছুডাইয়া আনবার লাইগ্যা। তোরে গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করছি, তোরে কে কে মদদ দিছে।’
এ সময় চারপাশে উপস্থিত শতাধিক মানুষকে চেয়ারে বসে ও দাঁড়িয়ে নির্যাতনের সেই দৃশ্য দেখতে এবং অনেককে মুঠোফোনে দৃশ্য ধারণ করতেও দেখা গেছে। এ বিষয়ে কথা বলতে একাধিকার চেষ্টা করেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় ইউপি সদস্য হানিফ মিয়া ও নির্যাতনের শিকার অভি মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, মাদক ব্যবসার অভিযোগে গ্রামে সালিস বসে। সেখানে অভি মিয়াকে শাসন করতে গিয়ে মাত্রাতিরিক্ত নির্যাতন করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর ওই গ্রামে বিট কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়। তবে ঘটনার পর থেকে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা পলাতক। এ ছাড়া বাড়িতে গিয়েও ভুক্তভোগী অভি মিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের পাওয়া যায়নি। তাঁকে থানায় যোগাযোগের জন্য এলাকায় বলা হয়েছে। তিনি বলেন, অভি মিয়া এলাকায় মাদকের ব্যবসা করেন। আগেও পুলিশ তাঁকে দুই বার গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় দুটি মাদক মামলা আছে।