বিদ্যুতের দাম বাড়ায় সিএনজির কমিশন বাড়ানোর দাবি
· Prothom Alo

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোয় কমপ্যাক্ট ন্যাচারাল গ্যাসের (সিএনজি) সরবরাহ খরচ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। তারা বলছে, এক দশক ধরে তাদের কমিশন বাড়ছে না। এর মধ্যে ৭ দফায় বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। অন্যান্য খরচও বেড়েছে। তাই প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রি থেকে কমিশন বাড়ানোর দাবি করেছে সংগঠনটি। ৩০ জুনের মধ্যে এটি না হলে আগামী ১ জুলাই থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
Visit casino-promo.biz for more information.
আজ শনিবার রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এমন দাবি জানান। প্রতি ঘনমিটার সিএনজির দাম এখন ৪৩ টাকা। এতে ৫ টাকা ৯৬ পয়সা কমিশন পায় সিএনজি স্টেশন। সংগঠনের নেতারা বলছেন, ২০১৫ সালের পর থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়ালেও সিএনজি স্টেশনমালিকদের কমিশন আনুপাতিক হারে সমন্বয় করেনি। ফলে স্টেশনগুলোর পরিচালনায় খরচ ক্রমশ বেড়েছে।
নেতারা বলেন, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিজনিত ব্যয় সমন্বয়ের জন্য বর্তমান কমিশনের সঙ্গে আরও ২ টাকা ৪৬ পয়সা যোগ করা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি দেশব্যাপী চলমান মূল্যস্ফীতি, শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি এবং যন্ত্রাংশ ও পরিচালন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে অতিরিক্ত আরও ৩ টাকা ৫০ পয়সা সমন্বয় করা জরুরি। প্রতি ঘনমিটারে সিএনজি স্টেশনের কমিশন এখন ৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা করার দাবি জানিয়েছে তারা।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৩ সালে সিএনজি স্টেশন মালিকদের কমিশন ২ টাকা ৯৮ পয়সা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয়ের সুপারিশ করেছিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। কিন্তু পরে মাত্র ১ টাকা কমিশন বাড়ানো হয়। বাকি ১ টাকা ৯৮ পয়সা দীর্ঘ এক দশকেও বাস্তবায়ন করা হয়নি।
স্টেশনমালিকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি ও সংযোগ সড়কের ইজারা ফি, বিভিন্ন লাইসেন্স নবায়ন ব্যয়, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংক গ্যারান্টির কমিশন ও সুদ, মূল্যস্ফীতি এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমানে পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ফলে সরকারনির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করে বর্তমানে দেশের অনেক সিএনজি স্টেশন চরম লোকসানের মুখে পড়েছে এবং বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এক দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সরকারি কমিটি ও মন্ত্রণালয় সিএনজি খাতের এসব দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে একাধিক সুপারিশ দিলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সেগুলোর বেশির ভাগই আলোর মুখ দেখেনি বলে নেতারা অভিযোগ করেন। তাঁরা বলেন, সম্প্রতি সরকার পরিবর্তনের পরও বিষয়গুলো সমাধানের লক্ষ্যে জ্বালানি বিভাগ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু বারবার আশ্বাসের পরও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর অগ্রগতি লক্ষ করা যায়নি।