২৮ দিনের প্রস্তুতি আর বিমানবন্দরে ভোগান্তি, তবু লড়াকু মেয়েদের কুর্নিশ মালদ্বীপ কোচের

· Prothom Alo

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মঞ্চে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে ২-২ সমতায় ফিরে আসা মালদ্বীপের নারী ফুটবলে বিরাট এক অনুপ্রেরণাই। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের কাছে ৪-২ গোলে হেরে অষ্টম সাফ থেকে বিদায় নিলেও এই ম্যাচ ছিল পাহাড়সম প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এ যুদ্ধ।

Visit newsbetting.club for more information.

মালদ্বীপ জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার সাবাহ মোহামেদ ইব্রাহিম যখন কোচের দায়িত্ব নেন, হাতে সময় ছিল খুব কম। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে মালদ্বীপ কোচ ছিলেন বেশ তৃপ্ত, ‘আমি আমার মেয়েদের নিয়ে গর্বিত, তারা মাঠে নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছে।’

মাত্র ২৮ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে এই টুর্নামেন্টে আসা কোচের জন্য ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। কোচের কণ্ঠে ঝরেছে অসহায়ত্ব, ‘আমি অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কোচ ছিলাম, কিন্তু হঠাৎ এফএ আমাকে এই দায়িত্ব দেয়। ভারত ও বাংলাদেশের তুলনায় আমরা অতটা পেশাদার নই, আমাদের কোনো পেশাদার লিগও নেই। এমনকি মালদ্বীপের মেয়েরা মূলত ফুটসাল থেকে উঠে আসে এবং কোনো টুর্নামেন্ট থাকলেই কেবল জাতীয় দলে যোগ দেয়।’

মালদ্বীপকে আরও গোল দিতে না পারায় বাটলারের অসন্তোষ এবং চরম এক হুঁশিয়ারি

মাঠে নামার আগের পরিস্থিতি ছিল আরও শোচনীয়। মুম্বাই বিমানবন্দরে প্রশাসনিক ও টিকিট-জটিলতায় দলের অর্ধেক খেলোয়াড় আটকে পড়েছিলেন। সাবাহ সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা মনে করে বলেন, ‘আমাদের কিছু লাগেজ হারিয়ে গিয়েছিল...টিকিট সমস্যার কারণে অর্ধেক দল মুম্বাই থেকে পরে আসে। আমাদের হাতে বিশ্রামের জন্য ২৪ ঘণ্টাও সময় ছিল না। এই ক্লান্তি আর মূল গোলরক্ষককে ছাড়া ভারতের বিপক্ষে খেলতে নামাটা ছিল বড় এক ধাক্কা।’

বাংলাদেশকে চাপে রেখেছিল মালদ্বীপ

ভারতের কাছে ১১-০ গোলে হারার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়া স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু কোচ তাঁর মেয়েদের লড়াকু মনোভাব ধরে রাখতে শিখিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, ‘আমি আমার মেয়েদের বলেছিলাম গোল খাওয়ার পরেও ভেঙে না পড়তে।

এক গোল খাওয়ার পর লক্ষ্য ছিল দ্বিতীয় গোলটা যেন না খাই।’ তাঁর কৌশল ছিল স্পষ্ট, ‘আমাদের ডিফেন্ডিং শুরু হয় স্ট্রাইকার থেকে। যদি সেন্টার ব্যাক বল নিয়ে এগিয়ে আসে, তবে স্ট্রাইকারই প্রথম ডিফেন্ডার হিসেবে তাকে আটকাবে।’

মালদ্বীপের বিপক্ষে ঘামঝরানো জয়, সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

প্রতিবেশী দেশগুলোর উন্নতির দিকে তাকিয়ে কোচের মুখে আক্ষেপের সুর, ‘ভারত, বাংলাদেশ ও নেপাল বছরের পর বছর প্রস্তুতি নিচ্ছে, ইউরোপে ক্যাম্প করছে। এমনকি ভুটানও প্রচুর উন্নতি করেছে।’ তিনি স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন, ফুটবল উন্নয়ন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, রাতারাতি সাফল্য আসা সম্ভব নয়। আমি দুঃখিত, কিন্তু এটাই আমাদের বাস্তব চিত্র।’

প্রস্তুতিহীনতার মাঝেও মেয়েদের লড়াইয়ে মুগ্ধ মালদ্বীপ কোচের ভাষায়, ‘শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত লড়াই করে গেছে। ওরা এত ভালো খেলেছে যে আমি নিজেও অবাক।’

Read full story at source