তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্কের নাম পরিবর্তন, ২৩ বিশিষ্টজনের প্রতিবাদ

· Prothom Alo

মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্কের নাম পরিবর্তন এবং সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছেন ২৩ বিশিষ্ট নাগরিক। আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে রাজউক কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান তাঁরা।

Visit solvita.blog for more information.

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতি সংরক্ষণে ২০২০ সালে গুলশান পার্কটির নামকরণ করা হয়েছিল। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রপত্রিকা থেকে আমরা জানতে পেরেছি, রাজউক কর্তৃপক্ষ প্রচলিত আইন ও নাগরিক অধিকারকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্কের নাম পরিবর্তন করে গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স নামে নতুন নামকরণ করেছে। আর এটা করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কোনো বৈধ এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে।

বিবৃতিদাতারা প্রশ্ন করেন, ‘সর্বজনশ্রদ্ধেয় মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রীর নাম এভাবে পরিবর্তন করে তাঁকে অসম্মান করার কোনো অধিকার কি রাজউক বা অন্য কোনো সরকারি এজেন্সির আছে, না থাকা উচিত?’

বিশিষ্টজনেরা এ উদ্যোগকে চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অবজ্ঞারই বহিঃপ্রকাশ বলে এর তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, এর আগে রাজউক ২০১৩ সালে মাঠ থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য নির্দেশনা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব এ মাঠের বিষয়ে একটি রিট আবেদন করে। উচ্চতর আদালত রিট পিটিশন খারিজ করে মাঠের অবৈধ স্থাপনার উচ্ছেদের নির্দেশনা দেয়। বর্তমানে সেই একই দখলদার গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের অবৈধ স্থাপনাকে বৈধতা দেওয়ার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ন্যক্কারজনক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পার্কটির নাম পরিবর্তন করে গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স নামকরণ করে আবার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদেরই দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মূলত একটি অলাভজনক সামাজিক সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও ২০১৩ সালে তারা ওই পার্কে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে কিছু স্থাপনা নির্মাণ করেছিল। রাজউক তখন সেই অবৈধ ও বাণিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেয় এবং তা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। অনেক আগে থেকেই গুলশান পার্কের ৫ দশমিক ৫৪ একর জমি তারা দখল করে রেখেছিল বলে অভিযোগ আছে। এই পার্ক ও মাঠ ব্যবস্থাপনার নামে তারা ভাড়া দিয়ে অর্থ রোজগারের পথ উন্মুক্ত করবে বলে অভিযোগ উঠেছে, যাতে শুধু ধনী লোকের সন্তানেরা টাকা দিয়ে খেলতে পারে, যা মাঠ পার্ক ও জলাধার আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

বিবৃতিদাতারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও কঠোর প্রতিবাদ জানান। সেই সঙ্গে পার্কটির আগের নাম ফিরিয়ে এনে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন সুলতানা কামাল, খুশী কবির, জেড আই খান পান্না, ইফতেখারুজ্জামান, শাহনাজ হুদা, শহিদুল আলম, রেহেনুমা আহমেদ, সারা হোসেন, সালমা আলী, আবু সাঈদ খান, শামসুল হুদা, রোবায়েত ফেরদৌস, তাসনিম সিরাজ মাহবুব, জোবাইদা নাসরীন, সুব্রত চৌধুরী, মো. নুর খান, জাকির হোসেন, সাঈদ আহমেদ, সাইদুর রহমান, মনিন্দ্র কুমার নাথ, রেজাউল করিম চৌধুরী, পাভেল পার্থ ও হানা শামস আহমেদ।

Read full story at source