দুই দিন আগেই জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ
· Prothom Alo

একটা টেস্ট জিততে কী লাগে?
Visit asg-reflektory.pl for more information.
ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে রান, বোলারদের উইকেট—এই তো! মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের কাজটা করে দিয়েছেন। বোলিং বিভাগে তো জ্বলে উঠেছেন প্রায় সবাই।
আর কিছু?
অনেকে বলতে পারেন, টেস্ট খেলা তো সেশন বাই সেশনের খেলা। সেখানেও জিততে হবে। বাংলাদেশ জিতেছে সেখানেও। সিলেট টেস্টের প্রথম তিন দিনে আপনি একটি সেশনও খুঁজে পাবেন না, যেখানে পাকিস্তান একাই দাপট দেখিয়েছে। আর এ সবেরই ফল, সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ।
সিলেট টেস্ট জিততে আগামী দুই দিনে পাকিস্তানকে করতে হবে ৪৩৭ রান, হাতে ১০ উইকেট। টেস্ট ইতিহাসে এত রান তাড়া করে জিততে পারেনি কোনো দল। সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের, ৪১৮।
টেস্টে পাকিস্তান সর্বোচ্চ ৩৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে পেরেছে, ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাল্লেকেলেতে। ওই জয়ে বড় ভূমিকা ছিল ইউনিস খানের অপরাজিত ১৭১ রানের ইনিংসের। সেঞ্চুরি ছিল বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক শান মাসুদেরও। এরপরও সেই পাকিস্তান আর এই পাকিস্তানের পার্থক্য আকাশ-পাতাল।
পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ বেশ চাপে আছেনএই দলে একজন ইউনিস খান নেই, একজন মিসবাহ-উল হক নেই। এই পাকিস্তান দেশের বাইরে জিততেও ভুলে গেছে। সর্বশেষ দেশের বাইরে পাকিস্তান জিতেছে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে, কলম্বোয়। এরপর হেরেছে টানা ৬ ম্যাচে। এখনই জয়ের প্রসঙ্গ কেন আসছে বুঝতেই পারছেন!
বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২৬১ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড আছে পাকিস্তানের। ২০০৩ সালে মুলতান টেস্টে ইনজামাম-উল-হকের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান সেই রান তাড়া করেছিল।
লিটন বাংলাদেশে যেখানে এক ও অনন্যশুধু পাকিস্তানের দুর্বলতা বললে বাংলাদেশের বোলারদের প্রতি অবিচার করা হবে। বাংলাদেশের এই টেস্ট দলের প্রতিটি বোলারই একেকজন ম্যাচ উইনার।
তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম নতুন বলে উইকেট দেন, নাহিদ রানা গতির ঝড় তুলে ব্যাটসম্যানদের কাবু করেন। আর বল কিছুটা পুরোনো হলে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ তো আছেনই। এই টেস্টের প্রথম ইনিংসের স্কোরকার্ডেও এর ছাপ পাবেন। তাই এমন বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে পাকিস্তানের এই দলটির ৪৩৬ রান তাড়া করা একটু বেশিই কঠিন।
সেঞ্চুরির পর মুশফিকপাকিস্তানকে কঠিন লক্ষ্যটা ছুড়ে দেওয়ার কাজটা করেছেন মূলত মুশফিক। ১৩৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে এখন সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি তাঁর।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে সেঞ্চুরি করে মুমিনুল হকের ১৩ সেঞ্চুরি ছুঁয়েছিলেন মুশফিক। চলতি সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন মুমিনুল। ৯১ রানে আউট হয়ে তিনি সুযোগ মিস করলেও আজ মুশফিক তা করেননি।
মুমিনুলকে পেছনে ফেলে সবার ওপরে এখন মুশফিকঅবদান খুঁজতে গেলে লিটনের নামটাও আসবে। প্রথম ইনিংসের ‘ক্রাইসিস ম্যান’ লিটন আজও খেলেছেন ৬৯ রানের ইনিংস। দিনের শুরুতে অধিনায়ক নাজমুল ফেরার পর লিটন-মুশফিকের ১২৩ জুটিতেই দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রানের মতো বড় সংগ্রহের ভিত্তি পায় বাংলাদেশ।
৪ উইকেট পেয়েছেন শেহজাদস্বাগতিকদের জন্য আরও ভালো হতো দিনের শেষদিকে কোনো উইকেট নিতে পারলে। বাংলাদেশ পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে ২ ওভার বোলিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল। তাসকিন, শরীফুলের করা দুই ওভারই হয়েছে মেডেন। তবে উইকেটও হারায়নি পাকিস্তান।
তবে দিন শেষে স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ। জয়ের সুবাস যে পাওয়া যাচ্ছে!