আমাদের দেশের সাহিত্য যেটুকু বাইরে যায়, সমাদৃত হয়
· Prothom Alo

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ২০০৯ সালে কানাডা সফরে গিয়েছিলেন। তখন এশিয়ান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক তাঁর একটি বিস্তারিত সাক্ষাৎকার নেয়। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন প্রযোজক ও উপস্থাপক সুমন রাহমান। ১৪ মে আনিসুজ্জামানের মৃত্যুদিবস উপলক্ষে অপ্রকাশিত সেই সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ প্রকাশ করা হলো।
সুমন রাহমান: আপনাকে স্বাগত। কেমন আছেন?
Visit moryak.biz for more information.
আনিসুজ্জামান: অনেক ধন্যবাদ, ভালো আছি।
সুমন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেওয়ার পরে এখন আপনি কিসের সঙ্গে জড়িত? কীভাবে সময় কাটাচ্ছেন?
আনিসুজ্জামান: আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নিয়েছি ২০০৩ সালে। তারপর বছরখানেকের একটু বেশি পরে সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক হিসেবে আবার যোগ দিই। ওটা চলতে চলতেই গত বছরের জুনে বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে ইমেরিটাস প্রফেসর করল। ইমেরিটাস প্রফেসর মানে আমি আমৃত্যু এই অবস্থায় থাকব। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এভাবেই জড়িত আছি এবং থাকব। তা ছাড়া আমি ঢাকা থেকে প্রকাশিত কালি ও কলম নামে একটি মাসিক সাহিত্যপত্রের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি।
সুমন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ইতিহাস আছে। কিন্তু ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি—দুইয়ে মিলে কি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবনের অবনতি ঘটেছে?
আনিসুজ্জামান: ছাত্ররাজনীতির নামে নানা সুবিধাবাদী কাজকর্ম হচ্ছে। মারামারি, চাঁদাবাজি, এসবকে তো রাজনীতি বলা যায় না। আমরা শিক্ষকেরা যে স্বায়ত্তশাসন চেয়েছিলাম, সেটা পাওয়ার পরেও রাজনৈতিক দলাদলির মধ্যে চলে গেছি। আগে শিক্ষকেরা হয়তো বিভক্ত থাকতেন একটা বৃহত্তর আদর্শের ভিত্তিতে। যেমন আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের সময় একদল শিক্ষক সরকারকে সমর্থন করতেন, আমরা অনেকে বিরোধিতা করেছি। তখন নিজেদের কোনো পদ বা কোনো সুবিধা পাওয়ার বিষয় ছিল না। কোনো দলকে খুশি করার ব্যাপারও ছিল না। এটা এখন হয়ে গেছে। ভালো হয়নি। আমি দেখছি, আমাদের শিক্ষকদের অনেকে রাজনৈতিক দলকে পরামর্শ দিয়েছেন। রাজনৈতিক নেতারাই তাঁদের খুব শ্রদ্ধার সঙ্গে ডেকে নিয়ে গেছেন, জিজ্ঞেস করেছেন কী করা উচিত। এখন হয়তো রাজনৈতিক দলই অনেকখানি আমাদের পরিচালনা করছে।
সুমন: কেউ কেউ বলেন ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করলে হয়তো এর উপকার পাওয়া যাবে। আপনি কী মনে করেন?
আনিসুজ্জামান: বন্ধ করলে উপকার পাওয়া যাবে না। আমাদের চেষ্টা করতে হবে সুষ্ঠু রাজনীতি ফিরিয়ে আনার। ছাত্ররা কথা বলুক, মতামত দিক, কিছুটা অ্যাকটিভিজমের মধ্যেও থাকুক; কিন্তু তারা যেন সংঘাতের মধ্যে না যায়; তারা যেন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ইত্যাদি না করে।
তারপর ১৯৬৭ সালে আমার ছাত্র আহমদ ছফা, কাজী সিরাজ, এরা আমাকে বলল যে পূর্ব পাকিস্তানে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে যা লেখা হয়েছে, তার কোনো প্রতিনিধিত্বমূলক সংকলন হয়নি। আপনি একটা চেষ্টা করুন। আমি উৎসাহ নিয়ে প্রায় ৫০ জন লেখককে লিখতে বললাম।
সুমন: প্রগতিশীল সব সাংস্কৃতিক আন্দোলনে আপনি প্রথম কাতারে ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তানে রবীন্দ্রনাথ যখন অনেকটা পরিত্যাজ্য ছিলেন, তখন আপনি ও আপনার বন্ধুরা প্রথম রবীন্দ্রজয়ন্তী উদ্যাপন শুরু করেছিলেন। সেই দিনগুলোর কথা যদি একটু বলতেন।
আনিসুজ্জামান: আমি এ কথা বলব না যে আমরাই প্রথম রবীন্দ্রজয়ন্তী করতে আরম্ভ করি। আমি নিজে বিশেষভাবে যুক্ত ছিলাম রবীন্দ্র শতবর্ষের সঙ্গে। যখন আমরা দেখলাম বাংলা একাডেমি কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না, তখন আমিও গিয়েছিলাম একাডেমির পরিচালকের কাছে। তাঁর সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম, তাঁরা কিছু করতে পারবেন না। তখন রবীন্দ্রজয়ন্তী উদ্যাপনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবেই তিনটি কমিটি হয়। তিন কমিটির কর্মসূচি সমন্বয় করে কাজ করা হয়। তারপর ১৯৬৭ সালে আমার ছাত্র আহমদ ছফা, কাজী সিরাজ, এরা আমাকে বলল যে পূর্ব পাকিস্তানে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে যা লেখা হয়েছে, তার কোনো প্রতিনিধিত্বমূলক সংকলন হয়নি। আপনি একটা চেষ্টা করুন। আমি উৎসাহ নিয়ে প্রায় ৫০ জন লেখককে লিখতে বললাম। অনেকে বললেন লিখবেন, কিন্তু কিছুদিন পরেই কেন্দ্রীয় তথ্যমন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দিন সেই আলোচিত বিবৃতিটি দিলেন যে বেতার–টেলিভিশনে রবীন্দ্রনাথের গান প্রচার ক্রমান্বয়ে হ্রাস করা হবে, কেননা এগুলো পাকিস্তানের ভাবাদর্শের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তখন আমরা ১৯ জন এর প্রতিবাদ করি। প্রতিবাদের বিবৃতি লিখে দিয়েছিলেন মুনীর চৌধুরী। আমি বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাক্ষর সংগ্রহ করি। এর ফলে আমার সংকলনটার একটা অন্য অর্থ দাঁড়িয়ে গেল—সরকারি নীতির প্রতিবাদমূলক একটা ইস্যু। যাঁরা সরকারি চাকরি করছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ তাতে লিখতে ভয় পেলেন। ১৯৬৮ সালে রবীন্দ্রনাথ নামে ওই সংকলনটি বের হলো। আমাদের সাহিত্যচিন্তার একটা প্রতিফলন তার মধ্যে আছে। আবার রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে আমাদের যে গৌরববোধ, সেটাও আছে।
সুমন: আজকাল নানা মহল থেকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের সেই কালরাত্রি এবং স্বাধীনতার ঘোষণার মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা হচ্ছে। এ সম্পর্কে আপনার ধারণা কী?
আনিসুজ্জামান: ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হন, কিন্তু তাঁর নামে একটা স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয়, যেটা আওয়ামী লীগ নেতা হান্নান স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচার করেন। বঙ্গবন্ধুর নামে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয়েছিল, এমনকি চট্টগ্রামে সেটা মুদ্রিতও হয়েছিল। তারপর জিয়াউর রহমান আবার ঘোষণা দিলেন। জিয়াউর রহমান প্রথমে, আমার যত দূর মনে পড়ে, ঘোষণা দিয়েছিলেন নিজেকে রাষ্ট্রপতি বলে অভিহিত করে। পরে সংশোধন করে তিনি বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ঘোষণা দিলেন। জিয়াউর রহমানের ঘোষণা নিশ্চয়ই আমাদের অনেক সাহস জুগিয়েছিল; কিন্তু বঙ্গবন্ধুর জায়গাটা তো তিনি নিতে পারেন না।
সুমন: বাঙালি বিশ্বের একটা বিরাট জনগোষ্ঠী। বাংলা ভাষার স্থান বোধ হয় পঞ্চম। বাংলা সাহিত্য সে তুলনায় কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ মিলিয়ে?
আমি মূলত তিনটি স্তরে কাজ করেছি বলা যেতে পারে। প্রথমত, একটা হচ্ছে প্রধানত ঊনবিংশ শতাব্দীর মুসলমান লেখকদের লেখা ধরে তাঁদের চিন্তাধারার পরিচয়। দ্বিতীয়ত, তাঁদের আত্মপরিচয়, প্রধানত বাঙালি মুসলমানের আত্মপরিচয়। তৃতীয়ত, আমরা সাধারণভাবে বলি যে বাংলা গদ্যের সূচনা ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে, ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দের পরে। আমি দেখানোর চেষ্টা করেছি যে না, এর আগের ২০০ বছরেও বাংলা গদ্যের একটা ধারা ছিল।
আনিসুজ্জামান: বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে তুলনা করে বলা খুব মুশকিল। কিন্তু বোঝা যায় যে আমাদের সাহিত্য যখন সামান্য কিছু অনুবাদ হয়, বাইরে তা বেশ ভালোভাবেই গৃহীত হয়। আমি এক–আধটা উদাহরণ দিতে পারি। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ তাঁর লালসালু অনুবাদ করেছেন ট্রি উইদাউট রুটস নাম দিয়ে। সেটি ইউনেসকো থেকে বেরিয়েছিল। এটি খুব সামান্য ব্যাপার নয়। তারপর হাইনেম্যান নামে এক প্রকাশনী মডার্ন এশিয়ান লিটারেচার নামে একটা সিরিজ করেছে, চারটি বই বেরিয়েছিল প্রথম দফায়। তার মধ্যে রবীন্দ্রনাথের চতুরঙ্গ ছিল, শওকত ওসমানের জননী ছিল। এসব রচনা যেভাবে ওখানে গৃহীত হয়েছে, কিংবা শামসুর রাহমানের মৃত্যুর পরে গার্ডিয়ান পত্রিকায় উইলিয়াম রাদিচের যে বেশ বড় একটি অবিচুয়ারি বেরিয়েছিল, তার থেকে সাহস করে বলতে পারি, আমাদের দেশে যে সাহিত্য সৃষ্টি হচ্ছে, এর যেটুকু বাইরে যায়, সেটা সমাদৃত হয়। অতএব আমাদের নিজেদের প্রচেষ্টাকে ছোট করে দেখা ঠিক হবে না। কিন্তু আমাদের সাহিত্য যথেষ্ট অনুবাদ হচ্ছে না এবং বাইরে যাচ্ছে না।
সুমন: আপনার নিজের সাহিত্যচর্চা সম্পর্কে একটু বলুন।
আনিসুজ্জামান: আমি অল্প বয়সে আরম্ভ করেছিলাম, ছোটগল্প লিখে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকার সময়ই উপলব্ধি করি যে আমি গল্প না লিখলে কারও কোনো ক্ষতি হবে না, কাজেই ওটা বন্ধ করে দিই। প্রবন্ধের দিকেই ঝুঁকি। আমার প্রথম বই বের হয় ১৯৬৪ সালে। সেটি আমার পিএইচডি অভিসন্দর্ভের গ্রন্থরূপ, মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য। আমি মূলত তিনটি স্তরে কাজ করেছি বলা যেতে পারে। প্রথমত, একটা হচ্ছে প্রধানত ঊনবিংশ শতাব্দীর মুসলমান লেখকদের লেখা ধরে তাঁদের চিন্তাধারার পরিচয়। দ্বিতীয়ত, তাঁদের আত্মপরিচয়, প্রধানত বাঙালি মুসলমানের আত্মপরিচয়। তৃতীয়ত, আমরা সাধারণভাবে বলি যে বাংলা গদ্যের সূচনা ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে, ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দের পরে। আমি দেখানোর চেষ্টা করেছি যে না, এর আগের ২০০ বছরেও বাংলা গদ্যের একটা ধারা ছিল। সেই দেশীয় গদ্যধারাটার রূপ পাল্টে যায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পরে। এ বিষয়ে আমার একটা বই আছে পুরোনো বাংলা গদ্য নামে। যে উপকরণের ভিত্তিতে এ কথাগুলো বলেছিলাম, এখন আমি চেষ্টা করছি সেগুলো সংকলিত করে সবার সামনে উপস্থিত করতে, যাতে সবাই বিচার করতে পারেন দাবিটা ঠিক কি না। আর আমরা একসময় বাংলা একাডেমি থেকে যৌথভাবে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনার একটা পরিকল্পনা করেছিলাম। পাঁচ খণ্ডে বের হবে। আমি এটার প্রধান সম্পাদক। সম্পাদকমণ্ডলীতে আরও রয়েছেন আহমদ শরীফ, মমতাজুর রহমান তরফদার, কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, মুস্তাফা নূরউল ইসলাম। প্রথম খণ্ড বেরিয়ে গেছে অনেক আগে, দ্বিতীয় খণ্ড বেরোবে এই বছরে। এই খণ্ডে আমরা ১৬ শতক পর্যন্ত এসে যাব। আমার জীবদ্দশায় যদি তৃতীয় খণ্ড বের করতে পারি, তাহলে অনেকখানি সন্তুষ্ট বোধ করব। তাতে ১৮ শতকের শেষ পর্যন্ত আসব। এই মোটামুটি আমার নিজের লেখার বিষয়। আপনি বারবার উল্লেখ করেছেন আমার স্মৃতিকথামূলক লেখার। কাল নিরবধিতে আমার পূর্বপুরুষদের কথা থেকে আরম্ভ করে ১৯৭১ পর্যন্ত সময়টা নিয়ে লিখেছি। আমার একাত্তর মুক্তিযুদ্ধের সময়টা নিয়ে। এখন লিখছি বিপুলা পৃথিবী। এখন বোধ হয় আছি ১৯৯৭ সালে। ২০০৭ পর্যন্ত আসার চেষ্টা করব।
আনিসুজ্জামানের বই ‘বিপুলা পৃথিবী’র প্রচ্ছদবাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার মুহূর্তে যে আবেগ আমাকে আক্রান্ত করেছিল, তা আমার জীবনের একটা পরম সম্পদ। আমি তো ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। যেদিন স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসি—আমি নিজেই গাড়ি চালিয়ে আসছিলাম—সীমান্ত পার হয়ে গাড়ি থামিয়ে দুহাতে মাটি তুলে নিয়েছিলাম। আমি এমনিতে খুব সেন্টিমেন্টাল লোক নই।
সুমন: আপনার কাল নিরবধি পড়ে মনে হয় আপনি আপনার একান্ত জীবনের কথা ততটা প্রকাশ করতে চাননি।
আনিসুজ্জামান: এটা হতে পারে। আমার লেখার ত্রুটি হতে পারে; কিছুটা আমার স্বভাবের প্রকাশও হতে পারে। আমি যখন স্মৃতিকথা লিখতে আরম্ভ করি, তখন আমার মনের মধ্যেই এটা ছিল যে আমি ব্যক্তি হিসেবে খুব গুরুত্বপূর্ণ নই, কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী। অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষের সংস্পর্শে এসেছি। আমাদের সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেশভাগ, মুক্তিযুদ্ধ, তার পরবর্তী কাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি সেই সময়টা ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। সে কারণে হয়তো আমার নিজের কথা বেশি আসেনি।
সুমন: ব্রিটিশ ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ—এক জীবনে তিনটি বড় পালাবদল আপনি দেখেছেন। আপনি কি মনে করেন, আপনার জীবদ্দশায় এমন বড়মাপের আর কোনো ঘটনা দেখে যেতে পারবেন?
আনিসুজ্জামান: আমার মনে হয় না। বড় কোনো রূপান্তরের সম্ভাবনা আমি দেখি না। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার মুহূর্তে যে আবেগ আমাকে আক্রান্ত করেছিল, তা আমার জীবনের একটা পরম সম্পদ। আমি তো ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। যেদিন স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসি—আমি নিজেই গাড়ি চালিয়ে আসছিলাম—সীমান্ত পার হয়ে গাড়ি থামিয়ে দুহাতে মাটি তুলে নিয়েছিলাম। আমি এমনিতে খুব সেন্টিমেন্টাল লোক নই। কিন্তু আমার মনে হয় আমার মনে তখন যে অসাধারণ তৃপ্তি ও অর্জনের অনুভূতি কাজ করেছিল, তার কোনো তুলনা হয় না।