মা দিবসে বাংলার মায়ের আলো

· Prothom Alo

মা শুধু জন্মদাত্রী নন, তিনি একজন মানুষের প্রথম শিক্ষক, প্রথম সাহস, প্রথম আলো। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়ও এখানেই, আমি একজন বাংলার মায়ের সন্তান।

Visit turconews.click for more information.

গ্রামবাংলার এক সাধারণ নারী ছিলেন আমার মা। কিন্তু তাঁর চিন্তা ছিল অসাধারণ। দারিদ্র্য, কুসংস্কার, অনিশ্চয়তা আর সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা মানুষকে বদলে দিতে পারে। তিনি বলতেন, ‘সন্তানকে শুধু বড় করলেই হয় না, মানুষ করতে হয়।’

১৯৭১ সালের অগ্নিঝরা সময়ের মধ্য দিয়ে তিনি দেখেছিলেন একটি জাতির জন্ম। সেই স্বপ্ন তিনি নিজের সন্তানদের মধ্যেও বুনেছিলেন। ৯টি সন্তানকে অক্লান্ত পরিশ্রম, ধৈর্য আর ভালোবাসায় বড় করেছেন। গ্রামের কাঁচা মাটির ঘর থেকেও যে বিশ্বমানের মানুষ তৈরি হতে পারে, সেই বিশ্বাস তিনি কখনো হারাননি।

জীবনের প্রয়োজনে প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর আগে আমি পাড়ি জমাই সুইডেনে। কিন্তু দূরত্ব কখনো মা আর সন্তানের সম্পর্ককে দূরে সরাতে পারেনি। হাজার মাইল দূরে থেকেও ফোনের ওপারে তাঁর কণ্ঠ শুনলেই মনে হতো, আমি এখনো সেই গ্রামের সন্তান, যার জন্য মা রাত জেগে দোয়া করেন।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

২০০৬ সালের ডিসেম্বরে মা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। আজ তিনি ঘুমিয়ে আছেন সুইডেনের লিনশোপিং শহরের স্লাকা গ্রামের এক শান্ত মুসলিম কবরস্থানে। তবু কখনো মনে হয় না, তিনি হারিয়ে গেছেন। জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে আজও যেন শুনতে পাই তাঁর সেই পরিচিত কণ্ঠ, ‘মানুষের মাঝে তুমি মানুষ হয়ে বেঁচে থেকো বাবা।’

পৃথিবী হয়তো অনেক সফল মানুষের নাম মনে রাখে, কিন্তু তাঁদের পেছনে থাকা মায়েদের নীরব ত্যাগের গল্প খুব কমই লেখা হয়। অথচ বাংলার মায়েরা শুধু সন্তান জন্ম দেন না, তাঁরা ইতিহাসও গড়েন। আমার মায়ের জীবনই ছিল তার এক নীরব প্রমাণ।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন।

[email protected]

Read full story at source