তামিলনাড়ুতে ‘ক্ষমতার একমাত্র কেন্দ্র’ হওয়ার বার্তা দিলেন থালাপতি বিজয়
· Prothom Alo

ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে টানা চার দিন ব্লকবাস্টার থ্রিলার সিনেমার মতো টান টান উত্তেজনা চলছিল। এরপর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ‘থালাপতি’ সি জোসেফ বিজয়। তিনি একটি বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছেন, দক্ষিণের রাজ্যটিতে কেবল একজনই ক্ষমতায় থাকবেন, আর সেটা হলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম ভাষণে বিজয় বলেন, ‘আমি ছাড়া ক্ষমতার আর কোনো কেন্দ্র থাকবে না। আমিই হব ক্ষমতার একমাত্র কেন্দ্র।’ এর মাধ্যমে নীতি নির্ধারণে তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের কথা বুঝিয়েছেন থালাপতি বিজয়।
Visit sportnewz.click for more information.
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর আনুষ্ঠানিক নথিতে স্বাক্ষর করছেন থালাপতি বিজয়। এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। চেন্নাই নেহরু স্টেডিয়াম, তামিলনাড়ু, ভারত। ১০ মে ২০২৬তাঁর এই মন্তব্যে মনে হয়েছে তামিলনাড়ুর মানুষকে তিনি আবার আশ্বস্ত করতে চেয়েছেন যে টিভিকে-নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের ইচ্ছা পূরণে কোনো জোটসঙ্গীর চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না।
নিজেকে ‘থাম্বি’ বা ছোট ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উদ্দেশে বিজয় বার্তা দেন যে যারা ‘অপকর্ম’ করে সরকারকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করছে, তাদের এমন ভাবনাগুলো বাদ দেওয়া উচিত।
বিজয় বলেন, ‘আমি কোনো অন্যায় করব না। আমার সঙ্গে থাকা কাউকেও অন্যায় করতে দেব না। কারও মনে কোনো খারাপ উদ্দেশ্য থাকলে, এখনই তা (মন থেকে) মুছে ফেলুন।’
ডিএমকের জোটসঙ্গীদের ‘ধন্যবাদ’
সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘ম্যাজিক নম্বর’ ১১৮ বিধায়কের সমর্থন পেতে ডিএমকের (দ্রাবিড় মুনেত্র কাজাগাম) যেসব জোটসঙ্গী তাঁকে সমর্থন করেছেন, তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান থালাপতি বিজয়। এ ছাড়া কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে তিনি নিজের ‘ভাই’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ উপস্থিত সবার ভিডিও ধারণ করেন থালাপতি বিজয়। সরকার গঠনে সমর্থন দেওয়ায় রাহুলকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেছেন বিজয়। চেন্নাই নেহরু স্টেডিয়াম, তামিলনাড়ু, ভারত। ১০ মে ২০২৬থালাপতি বিজয় বলেন, ‘আমি কংগ্রেস প্রধান মল্লিকার্জুন খাড়গে ও পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় নেতা আমার ভাই রাহুল গান্ধীকে ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ জানাই কে সি ভেনুগোপাল, সেলভাপেরুন্থাগাই ও প্রাভিন চক্রবর্তীকে। সিপিএম নেতা পি শানমুগাম ও সু ভেঙ্কটেশন, ভিসিকে নেতা থোল তিরুমাভালাবন, রবিকুমার ও ভান্নিয়ারাসু এবং সিপিআই নেতা এম বীরাপান্ডিয়ানকেও আমার ধন্যবাদ।’
টিভিকে দলের সব কর্মী এবং ‘ভার্চ্যুয়াল যোদ্ধাদের’ (অনলাইনে যাঁরা সমর্থন জুগিয়েছেন) ধন্যবাদ জানান থালাপতি বিজয়।
‘আমি কোনো ফেরেশতা নই’
নিজেকে ‘মামা’ হিসেবে উল্লেখ করে তামিলনাড়ুর মানুষের উদ্দেশে বিজয় বলেন, তিনি কোনো ফেরেশতা নন, বরং সবার মতো তিনিও একজন সাধারণ মানুষ।
থালাপতি বিজয় বলেন, ‘আমরা যা করতে পারব না, তার কোনো প্রতিশ্রুতি দেব না। তবে আমার এখন আত্মবিশ্বাস আছে যে আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা যেকোনো কিছুই করতে পারব। আমি আপনাদের সবাইকে আমাকে কিছুটা সময় দেওয়ার অনুরোধ করছি। আমি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তার সবকিছু আমি পূরণ করব এবং সেগুলো বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে যাব। আমি নাগরিকদের একটি পয়সাও ছোঁব না।’
বিজয়ের মন্ত্রিসভা
বিজয়ের সঙ্গে টিভিকে দলের আরও ৯ জন নেতা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
এই মন্ত্রীদের মধ্যে একটি পরিচিত মুখ হলেন এআইএডিএমকে দলের সাবেক নেতা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ কে এ সেনগোত্তাইয়ান। তিনি কয়েক দশক ধরে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এমজিআর (মারুদুর গোপালান রামচন্দ্রন) ও জয়ললিতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।
এ ছাড়া শপথ নিয়েছেন বিজয়ের অন্যতম বিশ্বস্ত কৌশলবিদ হিসেবে পরিচিত আধাভ অর্জুনা এবং বক্তৃতায় পারদর্শিতার জন্য পরিচিত টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব রাজ মোহন। পাশাপাশি শপথ নিয়েছেন দন্ত্য চিকিৎসক থেকে রাজনীতিতে আসা টি কে প্রভু এবং মন্ত্রিসভার সর্বকনিষ্ঠ সদস্য এস কীর্তনা।
কংগ্রেস, সিপিআই (এম), ভিসিকে ও আইইউএমএল দলের যেসব নেতা টিভিকে সরকার গঠনে সমর্থন দিয়েছেন, তাঁরা পরে শপথ নিতে পারেন। দপ্তর বণ্টনের আলোচনা শেষ হওয়ার পর তাঁদের শপথ হতে পারে।