অবশেষে রাজশাহীতে ঝরল স্বস্তির বৃষ্টি, আমসহ অন্য ফসলের জন্য কেমন হলো
· Prothom Alo

তীব্র তাপপ্রবাহে সারা দেশে বৃষ্টি হলেও রাজশাহীতে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি ধরা দিচ্ছিল না। বৃষ্টির অভাবে অন্যতম অর্থকরী ফসল আম ঝরে পড়ছিল। গতকাল শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে কাঙ্ক্ষিত সেই বৃষ্টি। এই বৃষ্টি আমসহ অন্য ফসলের জন্য দরকারি ছিল বলে জানিয়েছেন একাধিক চাষি ও কৃষি বিভাগ।
Visit palladian.co.za for more information.
আজ শনিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত জেলায় ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে রাজশাহী আবহাওয়া অফিস। এটি চলতি বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক তারেক আজিজ বলেন, রাজশাহীতে আরও বৃষ্টি হতে পারে। গতকাল রাতে তেমন ঝড় হয়নি। তবে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস ছিল। বৃষ্টি হওয়াতে জেলায় তাপমাত্রা কমে এসেছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাজশাহীতে গত এপ্রিল মাসে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়নি। ৭ এপ্রিল ১ দশমিক ৪ মিলিমিটার এবং গত ২৮ মার্চ ৯ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। এরপর আর তেমন বৃষ্টি হয়নি। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে এবং এপ্রিলজুড়ে তা তীব্র আকার ধারণ করে। ২২ এপ্রিল রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর মধ্যে এপ্রিলের শেষ দিকে দেশের নানা স্থানে বৃষ্টি হচ্ছিল। কিন্তু রাজশাহীতে কয়েক দিন ধরে মেঘ জমলেও বৃষ্টি হচ্ছিল না। উল্টো গরমের তীব্রতা ছিল।
রাজশাহীতে চলতি বছরের রেকর্ড ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এতে অনেক জায়গায় জমেছে পানি। আজ শনিবার সকালে নগরের মোহনপুর এলাকায়প্রত্যাশিত বৃষ্টিতে জনজীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বৃষ্টিতে রাজশাহী নগরের ধুলাবালু মুছে গেছে। গাছগাছালি আরও সবুজ হয়েছে। এ ছাড়া কিছু ফসলের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে এই বৃষ্টি।
বৃষ্টি না হওয়াতে কিছু আগেও প্রথম আলোর কাছে আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন পুঠিয়া উপজেলার আমচাষি মাহবুব ইসলাম। আজ তিনি মুঠোফোনে জানান, এই বৃষ্টিতে আমের ঝরে পড়া বন্ধ হবে এবং পরিপুষ্ট হয়ে বোঁটা আরও শক্ত হবে। তিনি আরও জানান, তাঁর দুই বিঘা জমিতে পাট আছে। বৃষ্টিতে পাটের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকার হয়েছে।
পবা উপজেলার পারিলা গ্রামের কৃষক মনির হোসেন বলেন, তাঁর ধান এখনো কাঁচা। ধানের জন্যও সেচ দিচ্ছিলেন। বৃষ্টি হওয়াতে আর সেচের প্রয়োজন নেই। তাঁর বাগানের আমের জন্যও বৃষ্টি দরকারি ছিল।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, গতকাল রাতে তেমন ঝড় ছিল না, শিলাবৃষ্টিও হয়নি। এটি আমের জন্য খুবই ভালো হয়েছে। এ ছাড়া পাটের জন্য বৃষ্টির দরকার ছিল। এই বৃষ্টিতে কৃষকের বেশ উপকার হয়েছে। মাঠে থাকা অন্য ফসলের জন্যও ভালো হয়েছে।