আলোচনার নতুন প্রস্তাব দিলেও হামলার আশঙ্কা রয়েছে ইরানের
· Prothom Alo

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইরান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে নতুন একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, এই পদক্ষেপের ফলে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
গতকাল শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার এক খবরে তেহরানের নতুন প্রস্তাব সম্পর্কে বলা হয়েছে। অবশ্য ইরান প্রস্তাব সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম যে হারে বেড়েছিল, এই প্রতিবেদনের পর তা কিছুটা কমেছে।
Visit extonnews.click for more information.
অবশ্য ইরান নতুন প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানে হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের ওপর থেকে তেহরানের আস্থা ‘পুরোপুরি নষ্ট’ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে এক ফোনালাপে পেজেশকিয়ান এই আশঙ্কার কথা জানান।
ইরানের নতুন প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনের কাছে এখনো পৌঁছে দেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ইরানের দুই উচ্চপদস্থ সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরান আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। হামলার শিকার হলে তারা বড় ধরনের পাল্টা জবাব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। তাদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র স্বল্পস্থায়ী কিন্তু তীব্র হামলা চালাতে পারে। এই সুযোগে ইসরায়েলও হামলা চালাতে পারে।
গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে ইরানকে আলোচনায় বাধ্য করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নতুন হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে সামরিক কর্মকর্তারা ব্রিফ করবেন—এমন খবরের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের দুই উচ্চপদস্থ সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরান আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। হামলার শিকার হলে তারা বড় ধরনের পাল্টা জবাব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। তাদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র স্বল্পস্থায়ী কিন্তু তীব্র হামলা চালাতে পারে। এই সুযোগে ইসরায়েলও হামলা চালাতে পারে।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালে ২০২৫ সালের জুনে প্রথমবার এবং গত ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় দফায় ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে সংঘাত যুদ্ধে রূপ নেয় এবং এর ফলে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।
সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির মধ্যে বসে নেই তেহরানও। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, বর্তমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইরান তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠন করছে।
হামলার নতুন ছক ও তেহরানের পাল্টা প্রস্তুতি
ইরানের প্রেসিডেন্টের এই আশঙ্কার বাস্তব ভিত্তিও পাওয়া যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসনের তৎপরতায়। বৃহস্পতিবার মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল সিএনএনকে জানিয়েছেন, ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযানের বিষয়টি মার্কিন প্রশাসনের ‘টেবিলে’ রয়েছে। বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এতে মার্কিন সেনাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে এবং ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
এরই মধ্যে নতুন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৪৫ মিনিটের একটি কৌশলগত ব্রিফিং করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এতে সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান সংকটে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা নিয়ে এখন নিবিড় বিচার-বিশ্লেষণ করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের ১৫৯টি জাহাজ ডুবিয়ে সার্বিক নৌশক্তি ধ্বংস করে দিয়েছে।
সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির মধ্যে বসে নেই তেহরানও। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, বর্তমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইরান তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠন করছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বা লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে দেশটি।
এদিকে ইরানের নৌবাহিনীর সব যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার যে দাবি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করেছিলেন, তা নাকচ করে দিয়েছে পেন্টাগন। জেনারেল ড্যান কেইন মার্কিন কংগ্রেসে স্বীকার করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন কিছু ‘ফাস্ট অ্যাটাক বোট’ এখনো সক্রিয় রয়েছে। ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের ১৫৯টি জাহাজ ডুবিয়ে সার্বিক নৌশক্তি ধ্বংস করে দিয়েছে।
ফ্লোরিডার কংগ্রেসম্যান কার্লোস জিমেনেজ বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি এবং তাদের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ জরুরি। পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিমধ্যে প্রায় আড়াই হাজার কোটি (২৫ বিলিয়ন) ডলার খরচ হয়েছে।
মার্কিন রাজনীতিতে আইনি বিতর্ক, উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ
বিবিসি জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধ দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন আইনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসে অনুমোদন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাবলে যুদ্ধ চালানোর ৬০ দিনের সময়সীমা গতকাল পার হলেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দাবি, যুদ্ধবিরতি চলমান থাকায় এই সময়সীমা আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে ডেমোক্র্যাটরা এর আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মূলত ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করতেই ১৯৭৩ সালে এই ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোল্যুশন’ আইনটি পাস করা হয়েছিল।
ডেমোক্র্যাটরা আপত্তি তুললেও প্রতিনিধি পরিষদের অনেক রিপাবলিকান সদস্য পেন্টাগনের পাশেই আছেন। ফ্লোরিডার কংগ্রেসম্যান কার্লোস জিমেনেজ বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি এবং তাদের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ জরুরি। পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিমধ্যে প্রায় আড়াই হাজার কোটি (২৫ বিলিয়ন) ডলার খরচ হয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও কোনো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখনো কার্যত বন্ধ রয়েছে, যার নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ছে সারা বিশ্বে। ইরান প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেন।
বর্তমান এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণে পরিস্থিতি ‘প্রতি ঘণ্টায় দ্রুত আরও খারাপ’ হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে শান্তির পথ প্রশস্ত করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।