অন্যের উন্মুক্ত ওয়াই-ফাই ব্যবহার কি বৈধ
· Prothom Alo

ইসলামে অন্যের সম্পদ ভোগ বা আত্মসাৎ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এটি শুধু দৃশ্যমান সম্পদের ক্ষেত্রেই নয়, বরং অদৃশ্য সম্পদ যেমন ইন্টারনেট, ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক বা ডিজিটাল সুবিধার ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
কারও ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত থাকুক বা না থাকুক, মালিকের অনুমতি ব্যতীত সেটি ব্যবহার করা নৈতিক ও শরয়ি দৃষ্টিতে সংগত নয়।
অনেক সময় কেউ প্রযুক্তিগত অজ্ঞতার কারণে তাঁর নেটওয়ার্ক সুরক্ষিত করতে পারেন না—তাই বলে সেটি ব্যবহার করা বৈধ হয়ে যায় না। বরং তা হারাম অর্থাৎ নিষিদ্ধ।
কারও ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত থাকুক বা না থাকুক, মালিকের অনুমতি ব্যতীত সেটি ব্যবহার করা নৈতিক ও শরয়ি দৃষ্টিতে সংগত নয়।ওয়াক্ফ সম্পর্কে ইসলাম কী বলে
আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না এবং জেনেশুনে মানুষের সম্পদের কোনো অংশ পাপভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তা বিচারকদের কাছে পেশ করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৮)
তবে কিছু ক্ষেত্রে যেমন বিমানবন্দর, উন্নত মানের হোটেল বা নির্দিষ্ট পাবলিক স্থানে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত ওয়াই-ফাই সরবরাহ করা হয়। এসব ক্ষেত্রে নির্ধারিত ব্যবহারকারীরা তা ব্যবহার করতে পারেন।
সম্পদের ধারণা বদলেছে, বদলে যাক ওয়াক্ফের ধারণাওসলিমের তাকওয়া বা আল্লাহভীতি তখনই পরিপূর্ণ হয়, যখন সে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য উভয় ক্ষেত্রেই সততার পরিচয় দেয়।
আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না; তবে পরস্পরের সম্মতিক্রমে বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে।’ (সুরা নিসা. আয়াত: ২৯)
কিন্তু যেখানে ব্যবহার সীমাবদ্ধ বা ব্যক্তিগত, সেখানে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ থেকে বিরত থাকা একজন মুসলিমের নৈতিক দায়িত্ব। ইসলাম আমাদের ক্ষুদ্র ও অদৃশ্য অন্যায় থেকেও দূরে থাকার শিক্ষা দেয়।
মুসলিমের তাকওয়া বা আল্লাহভীতি তখনই পরিপূর্ণ হয়, যখন সে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য উভয় ক্ষেত্রেই সততার পরিচয় দেয়।
ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক: অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
সামাজিক মাধ্যমে অন্যের সম্মানহানি করার পরিণতি