ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে
· Prothom Alo

দেশে যেকোনো নির্মাণকাজে শ্রমিকের নিরাপত্তার বিষয়টি বরাবরই উপেক্ষিত থেকে গেল। শ্রমিকের প্রাণ যে কতটা তুচ্ছ, সেটি আবারও প্রতীয়মান হলো চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে ওয়াসার একটি প্রকল্পে। সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় খননকাজ চলাকালে মাটিচাপায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু ও দুজন আহত হয়েছেন। এর দায় ওয়াসা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।
প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পয়োনিষ্কাশন প্রকল্পের খননকাজে পাইপ বসানোর আগে মাটির অবস্থা পরীক্ষার জন্য ‘ট্রায়াল পিট’ বা গর্ত করা হয়েছিল। সাধারণ প্রকৌশলবিদ্যা বলে, আড়াই মিটারের মতো গভীর গর্ত খনন করার সময় মাটির ধস রোধে বিশেষ সুরক্ষা দেয়াল বা নিরাপত্তাবেষ্টনী থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ভোর চারটায় যখন কাজ চলছিল, তখন সেখানে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত আলো ছিল কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘চায়না হাইড্রো’র মতো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে এমন উদাসীনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
Visit amunra.help for more information.
চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প দীর্ঘ সময় পেরিয়ে এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রকল্পের পরিচালক তদন্ত কমিটি গঠন ও ক্ষতিপূরণের কথা বলছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তদন্ত কি প্রতিবারের মতো ফাইলের আড়ালেই ধামাচাপা পড়বে? আর স্রেফ আর্থিক ক্ষতিপূরণ কি একটি পরিবারের স্বপ্ন আর অভিভাবক হারানোর শূন্যতা পূরণ করতে পারে?
উন্নয়নমূলক কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য নির্দিষ্ট সেফটি প্রটোকল বা ‘নিরাপত্তা নির্দেশিকা’ রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, খরচ বাঁচাতে বা সময়ের চাপে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো এসব নিয়ম মানতে চায় না। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ প্রকল্পের তদারকিতে নিয়োজিত থাকলেও তারা মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তার বিষয়টি কতটা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছে, তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে।
আমরা মনে করি, কেবল তদন্ত কমিটি গঠনই যথেষ্ট নয়। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। শ্রমিকের মৃত্যু কোনো ‘পরিসংখ্যান’ নয়; এটি একটি রাষ্ট্রের মানবিকতার পরাজয়। আর কত প্রাণ গেলে আমাদের নীতিনির্ধারক ও ঠিকাদারদের টনক নড়বে? সরকারি-বেসরকারি যেকোনো নির্মাণকাজে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি জোরালোভাবে কার্যকর করতে হবে। সরকারকেই এ সংস্কৃতি তৈরির কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।