'রাতের পেঁচা'র জীবনসঙ্গী যখন 'ভোরের পাখি': ৪টি চ্যালেঞ্জ ও ৫টি সমাধান

· Prothom Alo

আমাদের চারপাশের অনেক দম্পতির একজন যখন ভোরের সূর্য দেখে দিন শুরু করেন, অন্যজন তখন রাতের একান্ত সময়ে নিজের জগত খুঁজে পান। কী করবেন এমন হলে?

ভোর পাঁচটা। জানালার পর্দা সরিয়ে যখন দিনের প্রথম আলো ঘরে ঢুকছে, আপনি তখন ফ্রেশ হয়ে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা বা কফি নিয়ে বারান্দায়। পাখির ডাক আর স্নিগ্ধ বাতাসে আপনার দিনের শুরুটা হয় চমৎকার। ঠিক একই সময়ে আপনার জীবনসঙ্গী ঘরের সব পর্দা টেনে গভীর ঘুমে মগ্ন।তাঁর দিন শেষ হয়েছে মাত্র ঘণ্টা তিনেক আগে; সারা রাত ল্যাপটপে কাজ, চ্যাটিং আর নেটফ্লিক্সের নতুন সিরিজ দেখে ভোর চারটায় তিনি বিছানায় গেছেন।

Visit syntagm.co.za for more information.

একজন যখন ভোরের সূর্য দেখে দিন শুরু করেন, অন্যজন তখন রাতের একান্ত সময়ে নিজের জগত খুঁজে পান

আমাদের চারপাশের অনেক দম্পতির বাস্তব জীবন ঠিক এমনই। একজন যখন ভোরের সূর্য দেখে দিন শুরু করেন, অন্যজন তখন রাতের একান্ত সময়ে নিজের জগত খুঁজে পান। এই দুই বিপরীত স্বভাবের মানুষের সংসার কি কেবলই ঝগড়া আর অশান্তির? নাকি সঠিক পরিকল্পনায় এটিই হতে পারে আদর্শ মেলবন্ধন?

নাইট আউল বা রাতের পেঁচা (যিনি রাত জাগেন) এবং মর্নিং বার্ড বা ভোরের পাখি (যিনি ভোরে ওঠেন)-র বিয়ে হলে বৈবাহিক জীবনে সময়ের পার্থক্যের কারণে কিছু চ্যালেঞ্জ যেমন আসে, তেমনি বুদ্ধিমত্তার সাথে সামলালে এটি বেশ ইতিবাচকও হতে পারে।

কী কী চ্যালেঞ্জ হতে পারে

একসঙ্গে সময় কাটানোর অভাব: একজন যখন ঘুমাতে যান, অন্যজন তখন সজাগ থাকেন। ফলে দিন শেষে বা দিনের শুরুতে কোয়ালিটি টাইম বা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করার সুযোগ কমে যেতে পারে।

শব্দ ও আলো নিয়ে সমস্যা: সকালে ভোরের পাখি যখন কাজ করেন, তার শব্দে নাইট আউলের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। আবার রাতে নাইট আউলের টিভি বা লাইটের কারণে অন্যজনের সমস্যা হতে পারে। আর এগুলো দিনের পর দিন ঘটলে হয় এ নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ চলতে থাকে নয়তো কোনো একজনের ঘুম কখনওই আরামের হয় না।

রাতে নাইট আউলের টিভি বা লাইটের কারণে অন্যজনের সমস্যা হতে পারে

শারীরিক ও মানসিক দূরত্ব: ঘুমের সময় আলাদা হওয়ায় ঘনিষ্ঠতা এবং একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশে মাঝে মাঝে বিঘ্ন ঘটে।

অনেক সময় মর্নিং পারসন মনে করতে পারেন নাইট আউল অলস

ভুল বোঝাবুঝি: অনেক সময় মর্নিং পারসন মনে করতে পারেন নাইট আউল অলস, আবার নাইট আউল মনে করতে পারেন অন্যজন তার প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

কীভাবে ম্যানেজ করবেন?

এটি সফলভাবে সামলানোর চাবিকাঠি হলো পরস্পরের প্রতি সম্মান এবং সমঝোতা। এ নিয়ে কিছু কার্যকর টিপস দেখে নিন এবারে।

ওভারল্যাপিং টাইম ব্যবহার: দিনের এমন কিছু সময় খুঁজে বের করুন যখন আপনারা দুজনেই জেগে এবং সজাগ থাকেন (যেমন: সন্ধ্যা ৫:৩০ থেকে রাত ১০:৩০)। এই সময়টুকুতে মোবাইল ছাড়া একে অপরকে পূর্ণ সময় দিন।

১০/১০ নিয়ম অনুসরণ: রাত ১০টার পর এবং সকাল ১০টার আগে কোনো বড় বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করবেন না। এ সময় মানুষ সাধারণত ক্লান্ত থাকে, যা থেকে ঝগড়া হতে পারে।

নাইট আউল রাতে ফোনের ভলিউম কমিয়ে অন্যজনের ঘুমের পরিবেশ ঠিক রাখতে পারেন

শব্দ নিয়ন্ত্রণ: মর্নিং পারসন সকালে হেডফোন ব্যবহার করতে পারেন বা গৃহস্থালী কাজ একটু সাবধানে করতে পারেন। পর্দাটা না হয় কিছুক্ষণ পরেই সরালেন। নাইট আউলও রাতে টিভি বা ফোনের ভলিউম কমিয়ে অথবা ইয়ারফোন ব্যবহার করে অন্যজনের ঘুমের পরিবেশ ঠিক রাখতে পারেন। কাজ করতে পার্সোনাল লাইট ব্যবহার করা যায়, যাতে সঙ্গীর কষ্ট না হয়। আলাদা স্টাডি রুম, স্টুডিও বা ওয়ার্কস্পেস ব্যবহার করার অপশন থাকলে তা করুন। সব কাজ শোবার ঘরেই করতে হবে এমন নয়।

ভার্চুয়াল কানেকশন: একজন যখন ঘুম থেকে উঠছেন বা ঘুমাতে যাচ্ছেন, তখন অন্যজনের জন্য একটি রোমান্টিক টেক্সট বা ইমেইল লিখে রেখে যেতে পারেন। এটি মানসিক দূরত্ব কমায়। মজার কিছু রিলস শেয়ার করে রাখতে পারেন। অথবা ট্যাগ দিন কিছু মজার পোস্টে।

সুযোগ হিসেবে দেখুন: এই ভিন্নতাকে সুযোগ হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। যেমন ছোট বাচ্চাদের দেখাশোনার ক্ষেত্রে একজন সকালে সামলালে অন্যজন রাতে দায়িত্ব নিতে পারেন। এই বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে ঘরের কাজ ভাগ করে নেওয়া যায়। সকালে বাজারের কাজ বা বাচ্চাদের স্কুলের দায়িত্ব নিতে পারেন মর্নিং পারসন। আর রাতের বিল দেওয়া, অনলাইনে কেনাকাটা বা রান্নাঘরের গোছগাছ সেরে রাখতে পারেন নাইট আউল। এতে কারো ওপরই অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।

ঘড়ির কাঁটা যেদিকেই থাকুক না কেন, মনের কাঁটা দুটো যেন একসঙ্গেই চলে—সেটাই আসল কথা

বিয়ে মানেই যে সব কিছুতে হুবহু মিল থাকতে হবে, তা নয়। পরষ্পরের প্রতি শ্রদ্ধা আর একটুখানি ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকলে এই সময়ের ব্যবধানটুকুই সম্পর্কের মাধুর্য বাড়িয়ে দেয়। ঘড়ির কাঁটা যেদিকেই থাকুক না কেন, মনের কাঁটা দুটো যেন একসঙ্গেই চলে—সেটাই আসল কথা। পরস্পরের শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লক বা সার্কাডিয়ান রিদমকে সম্মান করাই হলো এই সম্পর্কের মূল ভিত্তি।

Read full story at source