নিজেদের সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প লিখে পুরস্কার জিতলেন তিন নারী
· Prothom Alo

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে কুমারিকা ও প্রথম আলো ডটকমের উদ্যোগে আয়োজিত হয় ‘আমার গল্প, আমার শক্তি’ শীর্ষক বিশেষ ক্যাম্পেইন। নারীদের জীবনের সংগ্রাম ও সাফল্যের না–বলা গল্পগুলো তুলে ধরতেই নেওয়া হয় এই বিশেষ উদ্যোগ। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেরা তিন লেখকের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
Visit casino-promo.biz for more information.
তাঁরা হলেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নাজমুন নাহার মুন্নি, যারীন’স ক্রিয়েশনের স্বত্বাধিকারী আফরোজা সুলতানা শিউলি এবং ক্যাফে দোতালার স্বত্বাধিকারী নাসরিন নওরোজ স্বপ্না। তাঁদের প্রত্যেকের গল্পে উঠে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতা, সংগ্রাম এবং প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অনন্য অভিজ্ঞতা। প্রত্যেকেই পান একটি করে গিফট হ্যাম্পার এবং প্রথমা প্রকাশনের বই।
বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রথম আলোর হেড অব ইংলিশ অনলাইন আয়েশা কবির এবং হেমাস কনজ্যুমার ব্র্যান্ডস বাংলাদেশের সিনিয়র ব্র্যান্ড ম্যানেজার রিয়াদ মোর্শেদ।
অতিথির হাত থেকে পুরস্কার নিচ্ছেন সেরা তিন লেখকের একজন যারীন’স ক্রিয়েশনের স্বত্বাধিকারী আফরোজা সুলতানা শিউলি (মাঝখানে)এ সময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হেমাস কনজ্যুমার ব্র্যান্ডস বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অফিসার তাহসীন আলম রাদীদ, প্রথম আলোর সহকারী মহাব্যবস্থাপক রুহুল আমিন রনি, সহকারী ব্যবস্থাপক মো. শাহাদাত হোসেন সোহেল এবং আয়োজনটির সহযোগী এজেন্সি এশিয়াটিক মিডিয়া লিমিটেডের কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সিনিয়র কনটেন্ট ম্যানেজার খায়রুল বাবুই।
বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে আয়েশা কবির বলেন, ‘আমাকে অনেকেই বলেন, নারী দিবস পালনের উদ্দেশ্য কী? এটি আমাদের কিছুটা হেয় করছে কি না? আমার মনেও ঠিক এমন প্রশ্ন আসত। কিন্তু যখন দেখি কন্যাসন্তান জন্ম নিলে এখনো অনেকেরই মন খারাপ করে, তখন মনে হয়, এসব কাটিয়ে উঠতে আমাদের নানা উদ্যোগ নিতে হবে। তবে আমরা চাই, দ্রুতই সেই দিন আসুক, যেদিক আর আলাদা করে নারী দিবস পালন করতে হবে না।’ বিজয়ীদের উদ্দেশে আয়েশা কবির বলেন, ‘আপনারা হলেন সত্যিকার রোল মডেল। আমরা চাই, আপনাদের গল্পগুলো সবাই জানুক এবং অনুপ্রাণিত হোক।’
ক্যাম্পেইনটির পটভূমি সম্পর্কে রিয়াদ মোর্শেদ বলেন, ‘যাঁরা এই ক্যাম্পেইনে নিজেদের গল্প লিখে পাঠিয়ে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ। সেই সঙ্গে ধন্যবাদ প্রথম আলোকে, সুযোগটি তৈরি করে দেওয়ার জন্য। কুমারিকার লক্ষ্য শুধু পণ্য বিক্রি নয়, আমাদের গ্রাহক যেহেতু নারী, তাই আমরা চাই, তাঁরা এগিয়ে যান। নারীরা এগিয়ে গেলেই আমরাও এগিয়ে যাই। এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্যই ছিল নারীদের অনুপ্রেরণা জোগানো এবং তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নেওয়া। ভবিষ্যতেও আমরা প্রথম আলোর সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগে অংশ নিতে চাই।’
অতিথির হাত থেকে পুরস্কার নিচ্ছেন সেরা তিন লেখকের একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নাজমুন নাহার মুন্নি (মাঝখানে)পুরস্কারজয়ী লেখক যারীন’স ক্রিয়েশনের স্বত্বাধিকারী আফরোজা সুলতানা শিউলি বলেন, ‘১৯৯৭ সালে আমার থ্যালাসেমিয়া ধরা পড়ে। অসুস্থতার কারণে সবাই আমাকে ঘরে বসে থাকতে বললেও আমি ঘরে বসে থাকিনি। ইচ্ছা থাকলে অসুস্থতা নিয়েও কাজ করা সম্ভব। আমাকে জীবনে নানা বাধাবিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে, কিন্তু আমি থেমে থাকিনি। আমার ইচ্ছা ছিল নিজেই কিছু করার। তাই সব বাধা বিপত্তি পেরিয়ে আজ ঢাকার গুলশানে যারীন’স ক্রিয়েশনের একটি অফলাইন স্টোর চালু করতে পেরেছি। আমি চাই, সবার মধ্যে এই মানসিকতা আসুক—অসুস্থতা থাকলেও কাজ করা যায়।’
পুরস্কার জিতে গর্বিত ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নাজমুন নাহার মুন্নি বলেন, ‘একসময় আমার জীবন ছিল কষ্ট, সংগ্রাম এবং দুর্ভোগের। কিন্তু নারীরা চেষ্টা করলে নিজের জীবন বদলাতে পারে। আমি নিজেই তার উদাহরণ। আমি বিশ্বাস করি, একজন নারীকে এগিয়ে যেতে হলে আত্মবিশ্বাস এবং দক্ষতা অত্যন্ত জরুরি।’
অতিথির হাত থেকে পুরস্কার নিচ্ছেন সেরা তিন লেখকের একজন ক্যাফে দোতালার স্বত্বাধিকারী নাসরিন নওরোজ স্বপ্না (মাঝখানে)এরপর নিজের সংগ্রাম ও সাফল্যের কথা তুলে ধরেন ক্যাফে দোতালার স্বত্বাধিকারী নাসরিন নওরোজ স্বপ্না। তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই আমাকে মেয়ে হওয়ার জন্য অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। এরপর বিয়ে হলো, কিন্তু বিয়ের পরও ঝামেলা আমার পিছু ছাড়েনি। আর্থিক সংকট থেকে শুরু করে স্বামীর অসুস্থতা—সব মিলিয়ে সংকটের যেন শেষ নেই। কিন্তু আমার স্বপ্ন ছিল নিজের একটি পরিচয় গড়ে তোলার। আমি চেয়েছিলাম, আমাকে সবাই আমার নিজের পরিচয়েই জানবে–চিনবে। আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে—অসম্ভব ইচ্ছাশক্তি আর দৃঢ় মনোবলের জন্য।’
‘আমার গল্প, আমার শক্তি’ ক্যাম্পেইনে সারা দেশ থেকে অসংখ্য নারী তাঁদের জীবনের সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প লিখে পাঠিয়েছিলেন। কেউ পেশাগত সাফল্যের, কেউবা প্রতিকূলতা জয় করার, আবার কেউ নিজের ছোট উদ্যোগকে বড় করে তোলার গল্প। সেগুলোর মধ্য থেকে সেরা হিসেবে নির্বাচিত করা হয় তিনজনকে।’