ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরতেও বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে যাত্রীদের

· Prothom Alo

ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ বেড়েছে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাসচালক ও পরিবহন-সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।

পরিবহনশ্রমিকেরা বলছেন, ঢাকা থেকে খালি বাস নিয়ে পাটুরিয়ায় আসতে হচ্ছে। এই ফিরতি পথের জ্বালানি তেলের খরচ বাবদ যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে। আর যাত্রীরা বলছেন, ঈদের আগেও বাড়তি ভাড়া দিয়েছেন। ঈদ শেষে কর্মস্থলে যেতেও বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে।

Visit tr-sport.bond for more information.

সরেজমিনে দেখা গেছে, আজ শুক্রবার দুপুরের পর থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে যাত্রীর চাপ বেড়ে গেছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষ ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরছেন। তাঁরা রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া প্রান্ত থেকে লঞ্চে করে পাটুরিয়া ঘাটে আসছেন। এসব যাত্রীর অধিকাংশ ছিলেন ঢাকা ও গাজীপুর এবং এর আশপাশের এলাকার বিভিন্ন কারখানার পোশাকশ্রমিক। যাত্রীর তুলনায় বাসের সংখ্যা কম হওয়ায় পরিবহনশ্রমিকেরা যাত্রীদের জিম্মি করে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন।

কুষ্টিয়ায় গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ শেষে ঢাকার সাভারের ফুলবাড়িয়া এলাকায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন পোশাকশ্রমিক মো. তুহিন ইসলাম (৩৫)। বিকেল পাঁচটার দিকে পাটুরিয়া বাসস্ট্যান্ড (পুরাতন ট্রাক টার্মিনাল) এলাকায় বাড়তি ভাড়ার কারণে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি। ক্ষোভ নিয়ে তুহিন ইসলাম বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে পাটুরিয়া থেকে সাভারে বাসভাড়া ১৩০ টাকা হলেও নেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা। বিষয়টি দেখার কেউ নাই, প্রতিবাদ করারও কেউ নাই।’

স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে নিয়ে ঢাকার মিরপুরে যাচ্ছিলেন পোশাকশ্রমিক তরিকুল ইসলাম। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পাটুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে তিনি বলেন, ‘দুপুরে এখান থেকে গাবতলীর ভাড়া ৪০০ থেকে ৫০০ টাকাও নিয়েছে। এখন কন্ট্রাক্টররা ৩০০ টাকা চাইছে। অথচ অন্যান্য সময় এ পথের ভাড়া ১৮০ টাকা।’

সাভারে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন হৃদয় হোসেন। বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পাটুরিয়া থেকে সাভারের ভাড়া ১২০ টাকা। এখন চাইতেছে ৩০০ টাকা। আমরা এই পথেই যাতায়াত করি। ঈদ সময়ে ভাড়া একটু বেশি হয়ে থাকে। আর গাবতলীর ভাড়া ৩০০ টাকা। কিন্তু স্বাভাবিক সময়ে ভাড়া ১৮০ টাকা। আরেকটি সমস্যা হলো গাবতলীর আগে যেকোনো স্ট্যান্ডে নামলেও ভাড়া ৩০০ টাকা। এই অতিরিক্ত ভাড়া আমাদের জন্য হয়রানি।’

ভুক্তভোগী যাত্রীরা বলছেন, পাটুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হলেও পুলিশ বা প্রশাসনের কেউ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। পরিবহনশ্রমিক এবং বাস টার্মিনালের ইজারাদারের লোকজন সিন্ডিকেট করে এই বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় শিবালয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলাল হোসেন টার্মিনালের ইজারাদার। টার্মিনালে পার্কিং চার্জের জন্য প্রতিটি গাড়ি থেকে ৫০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও ইজারাদারের লোকজন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা নিচ্ছেন। শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বাস টার্মিনালে মো. মুন্না নামের ইজারাদারের এক কর্মীকে এক বাসচালকের কাছ থেকে পার্কিং চার্জের নামে ১৫০ টাকা নিতে দেখা যায়। তাঁর বাড়ি স্থানীয় ধুতরাবাড়ি এলাকায় বলে জানান। বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।

ইজারাদার ও ইউপি চেয়ারম্যান আলাল হোসেন বলেন, পার্কিং চার্জের নামে বাড়তি কোনো টাকা নেওয়া হচ্ছে না। নিয়মানুযায়ী রসিদের মাধ্যমে নির্ধারিত ৫০ টাকাই নেওয়া হচ্ছে।

বাড়তি বাসভাড়ার বিষয়ে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া পার্কিং চার্জের নামে বাস থেকে বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Read full story at source