মার্কিন ও সোভিয়েত বিজ্ঞানীদের মধ্যে অদৃশ্য যুদ্ধ হয়েছিল যে মৌল নিয়ে

· Prothom Alo

বিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন নতুন আবিষ্কার কেবল গবেষণাগারের সাফল্যের গল্প হয়ে থাকে না, হয়ে যায় জাতীয় মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের কারণ। পর্যায় সারণির ১০৫ নম্বর ঘরে থাকা মৌল ডুবনিয়াম তেমনই এক উত্তেজনাকর ইতিহাসের সাক্ষী। এটি কেবল একটি তেজস্ক্রিয় ধাতুই নয়, স্নায়ুযুদ্ধের সময়কালে এই ধাতু নিয়ে মার্কিন ও সোভিয়েত বিজ্ঞানীদের মধ্যে হয়েছিল শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এক অদৃশ্য যুদ্ধ।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

ডুবনিয়ামের জন্ম কোনো প্রাকৃতিক খনিতে হয়নি। মানুষের তৈরি কৃত্রিম বা ট্রান্সইউরেনিয়াম মৌলটির আবিষ্কার করা নিয়ে ১৯৬০ ও ৭০ দশকে মার্কিন ও সোভিয়েত বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্ক ছিল। এই বিতর্ককে ইতিহাসে ট্রান্সফার্মিয়াম যুদ্ধ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ১৯৬৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের দুবনা শহরে অবস্থিত জয়েন্ট ইনস্টিটিউট ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চের একদল বিজ্ঞানী ১০৫ নম্বর মৌলটি সংশ্লেষণ করেছেন বলে দাবি করেন। তাঁরা আমেরিসিয়াম-২৪৩–কে নিয়ন-২২ আয়ন দিয়ে আঘাত করে এই মৌলটির ২৬০ ও ২৬১ ভরের আইসোটোপ তৈরি করেছিলেন, যাদের অর্ধায়ু ছিল যথাক্রমে ০.১ সেকেন্ড ও ৩ সেকেন্ড। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী শুরুতে মৌলটির কোনো নাম প্রস্তাব করা হয়নি, কারণ বিজ্ঞানীরা মৌলটির রাসায়নিক ও ভৌত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁরা বিখ্যাত বিজ্ঞানী নিলস বোরের সম্মানে এর নাম প্রস্তাব করেন নিলসবোহরিয়াম।

১৯৭০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লরেন্স বার্কলে ল্যাবরেটরির একদল বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট ঘিয়রসোর নেতৃত্বে ক্যালিফোর্নিয়াম-২৪৯–কে নাইট্রোজেন-১৫ নিউক্লিয়াস দিয়ে আঘাত করে ১০৫ নম্বর মৌলটির ২৬০ নম্বর আইসোটোপ তৈরি করেন। এর অর্ধায়ু ছিল প্রায় ১.৬ সেকেন্ড। মার্কিন বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, সোভিয়েতদের কাছে পর্যাপ্ত পরীক্ষামূলক প্রমাণ নেই। তাঁরা পারমাণবিক ফিশন আবিষ্কারক অটো হানের সম্মানে এই মৌলের নাম প্রস্তাব করেন হ্যানিয়াম।

দুই দেশের বিজ্ঞানীদের এই রশি টানাটানি চলে দীর্ঘদিন। অবশেষে ১৯৯৭ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব পিওর অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি এই বিতর্কের অবসান ঘটায়। রাশিয়ার দুবনা শহরের নামানুসারে মৌলটির নাম রাখা হয় ডুবনিয়াম। ডুবনিয়াম পর্যায় সারণির গ্রুপ ৫ গোষ্ঠীর একটি সদস্য। এটি একটি অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় ধাতু। এর প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আমাদের জ্ঞান এখনো সীমাবদ্ধ, কারণ গবেষণাগারে এর মাত্র কয়েকটি পরমাণু তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। প্রকৃতিতে ডুবনিয়ামের কোনো অস্তিত্ব নেই। এটি ক্যালিফোর্নিয়াম-২৪৯–কে নাইট্রোজেন-১৫ নিউক্লিয়াস দিয়ে আঘাত করে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়। বর্তমানে ডুবনিয়ামের কোনো ব্যবহারিক প্রয়োগ নেই। এটি শুধু বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হয়। মানবদেহ বা অন্য কোনো প্রাণীর শরীরে ডুবনিয়ামের কোনো জৈবিক ভূমিকা নেই। এর অতিমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তা একে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

সূত্র: ব্রিটানিকা

Read full story at source