রোজার পুরস্কার আল্লাহ নিজেই কেন দেবেন
· Prothom Alo

আল্লাহ–তাআলার কাছে বান্দার সব আমল এক রকম আর রোজার হিসাব ভিন্ন রকম। প্রত্যেক নেক আমলের নির্ধারিত সওয়াব ও প্রতিদান থাকলেও রোজার বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ, রোজার বিষয়ে আল্লাহ–তাআলার পক্ষ থেকে রয়েছে এক অনন্য ঘোষণা।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
রোজার অনন্য প্রতিদান
মহানবী (সা.) বলেছেন, মানুষের প্রত্যেক আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি করা হয়। একেকটি পুণ্য ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘কিন্তু রোজা আলাদা। কেননা, তা একমাত্র আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর বিনিময় দেব। বান্দা একমাত্র আমার জন্য নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং পানাহার পরিত্যাগ করেছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮৯৪)
অন্য বর্ণনায় আছে, আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘বান্দা একমাত্র আমার জন্য তার পানাহার ও কামাচার বর্জন করে, রোজা আমার জন্যই, আমি নিজেই তার পুরস্কার দেব; আর (অন্যান্য) নেক আমলের বিনিময় হচ্ছে তার ১০ গুণ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯০৪)
রোজা : নফসের বিরুদ্ধে জিহাদসহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮৯৪রোজা আলাদা। কেননা, তা একমাত্র আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর বিনিময় দেব। বান্দা একমাত্র আমার জন্য নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং পানাহার পরিত্যাগ করেছে।ইমাম আওজায়ি (রহ.) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, আল্লাহ যে রোজাদারকে প্রতিদান দেবেন তা মাপা হবে না, ওজন করা হবে না; অর্থাৎ বিনা হিসাবেই দেবেন।
রোজার এত বড় ফজিলতের কারণ এটিও হতে পারে যে রোজা ধৈর্যের ফলস্বরূপ। আর ধৈর্যধারণকারীদের জন্য আল্লাহর সুসংবাদ হলো—‘ধৈর্যধারণকারীরাই অগণিত সওয়াবের অধিকারী হবে।’ (সুরা জুমার, আয়াত: ১০)
রোজাদারের জন্য বিশেষ পুরস্কার
১. কেয়ামতের দিন তৃষ্ণা নিবারণ: আল্লাহ–তাআলা নিজের ওপর অবধারিত করে নিয়েছেন, যে ব্যক্তি তাঁর সন্তুষ্টির জন্য গ্রীষ্মকালে (রোজার কারণে) পিপাসার্ত থেকেছে, তিনি তাকে তৃষ্ণার দিন (কিয়ামতের দিন) পানি পান করাবেন। (মুসনাদে বাজ্জার, হাদিস: ১০৩৯)
অন্য এক হাদিসে এসেছে, কেয়ামতের দিন রোজাদারদের জন্য একটি বিশেষ পানির হাউস থাকবে, যেখানে রোজাদার ব্যতীত অন্য কারও আগমন ঘটবে না। (মুসনাদে বাজ্জার, হাদিস: ৮১১৫)।
২. জান্নাত লাভের পথ: মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় একদিন রোজা রাখবে এবং সেই অবস্থায় তার মৃত্যু হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৩৩২৪)
আবু উমামা (রা.) জান্নাতে যাওয়ার আমল জানতে চাইলে নবীজি (সা.) বলেন, ‘তুমি রোজা রাখো, কেননা এর সমতুল্য কিছু নেই।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ২৫৩০)
রমজান মাস যে কারণে সবার জন্য শিক্ষণীয়যে রোজা রাখে, অন্য কারও তা জানার সুযোগ নেই। কেউ যদি সাহ্রি ও ইফতার করে মাঝখানে গোপনে কিছু খেয়ে ফেলে, তবে মানুষ তা বুঝতে পারবে না।
রোজা আল্লাহর জন্য অর্থ কী
এখানে প্রশ্ন জাগতে পারে, নামাজ বা হজ কি আল্লাহর জন্য নয়? অবশ্যই সবকিছু আল্লাহর জন্য। কোরআনে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু আল্লাহর জন্য।’ (সুরা আনআম, আয়াত: ১৬২)
তবে রোজা কেন আলাদা?
হাদিসবেত্তারা এর রহস্য উদ্ঘাটনে বলেন, নামাজ, জাকাত বা হজ—এগুলো কোনোটিই গোপন আমল নয়। নামাজ জামাতে পড়তে হয়, জাকাত প্রকাশ্যে দেওয়া সুন্নাত যেন অন্যরা উৎসাহিত হয় এবং হজের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক (ইহরাম) পরতে হয়।
ফলে এসব ইবাদতের কথা মানুষ জেনে যায় এবং ইবাদতকারীর ‘নামাজি’ বা ‘হাজি’ হিসেবে একটি পরিচয় তৈরি হয়।
কিন্তু রোজা তেমন নয়। যে রোজা রাখে, অন্য কারও তা জানার সুযোগ নেই। কেউ যদি সাহ্রি ও ইফতার করে মাঝখানে গোপনে কিছু খেয়ে ফেলে, তবে মানুষ তা বুঝতে পারবে না।
একজন রোজাদার তীব্র ক্ষুধা ও তৃষ্ণা থাকা সত্ত্বেও যে কিছু খান না, তা একমাত্র আল্লাহর ভয়ের কারণেই। এটি বান্দা ও আল্লাহর মধ্যকার একটি গোপন রাজ বা রহস্য। যেহেতু এখানে লৌকিকতার সুযোগ নেই, তাই আল্লাহ বলেছেন—‘রোজা আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।’
যে আমলের প্রতিদান আল্লাহ নিজে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, সেই প্রতিদান যে কতটা মহান হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।
ইলিয়াস মশহুদ : লেখক ও অনুবাদক
রমজান মাসের বাকি দিনগুলোয় সাহ্রি ও ইফতারে কী খাবেন