সরকারি দল রাজনৈতিক সমঝোতা বিনষ্টের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে দাঁড়াব: নাহিদ ইসলাম

· Prothom Alo

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির দিক থেকে বারবার সংবিধানের দোহাই দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার, ঐকমত্য কমিশন, এই নির্বাচন, এই সরকার—সবকিছুকে সংবিধান দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। সংবিধান অনুযায়ী তো এই নির্বাচন এই সময়ে হওয়ার কথা ছিল না। সংবিধান অনুযায়ী অনেক কিছুই হয়নি।

Visit amunra.qpon for more information.

আগে যা সংবিধান অনুযায়ী হয়নি, তা বর্তমান সংসদে রেটিফাই (অনুমোদিত) হওয়ার কথা ছিল উল্লেখ করে নাহিদ বলেছেন, ‘সবার রাজনৈতিক সমঝোতার মধ্য দিয়ে সবকিছু এগোনোর কথা ছিল। সেই সমঝোতা যদি সরকারি দল বিনষ্ট করার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণ তার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। আমরাও তার বিরুদ্ধে দাঁড়াব।’

আজ রোববার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি প্রধান নাহিদ। এ সময় তিনি বলেন, সংসদ আমাদের কার্যক্রমের একটা জায়গা, রাজপথ বা রাজনৈতিক জায়গাটা আরেকটা জায়গা। সেই জায়গায় আমাদের অবস্থান, কর্মসূচি ও বক্তব্য চলমান থাকবে।

নাহিদ বলেন, ‘গণভোটের গণরায়ের পরও সরকারি দল সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। মনে হচ্ছে, সংসদে এ বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়ার একধরনের চেষ্টা হচ্ছে। আজকে আমরা তাদের (সরকারি দল) বক্তব্য পাইনি। ঈদের পরে সংসদে আমরা তাদের চূড়ান্ত বক্তব্যটা শুনব যে তারা গণভোট মানে কি মানে না। এরপর আমরা আমাদের অবস্থান জানাব।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আদেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন না

আজ সংসদের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যে জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫–কে অবজ্ঞা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আদেশটিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংসদে। এটা আসলে তিনি করতে পারেন না। কারণ, গণভোট হয়েছে এই আদেশের ভিত্তিতে। আপনি যদি গণভোট মানেন, গণভোটের রায় মানেন, তাহলে এই আদেশটাকেও মানতে হবে।

সরকারি দলের প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণভোটে হ্যাঁ–এর পক্ষে প্রচার করেছিলেন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকারি দল থেকে আমরা এখনো কোনো স্পষ্ট জবাব পাইনি যে তারা গণভোটকে মানেন কি মানেন না। এই স্পষ্ট জবাবের পরে আমরা আমাদের চূড়ান্ত বক্তব্য বা কর্মসূচি দেব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ তাঁর বক্তব্যে এ–ও বলেছেন, আমরা যাঁরা দুটি শপথ নিয়েছি, সেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথটি অসাংবিধানিক। এ কথাটি তিনি বলতে পারেন না। কারণ, এই শপথ আমরা নিজ ইচ্ছায় নিইনি। আমাদের নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, ২৯৭ জন সংসদ সদস্যকেই চিঠি দেওয়া হয়েছিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) স্বয়ং এই শপথ পড়িয়েছেন। এই শপথটাকে যদি অসাংবিধানিক বলা হয়, তাহলে ইসি ও সিইসিকেই সংবিধানের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকেই অসাংবিধানিক বলা হচ্ছে।’

‘গায়ের জোরে অবজ্ঞা’

জুলাই সনদ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের বিষয়ে একটা রাজনৈতিক সমঝোতা ছিল এবং এটি একটি মীমাংসিত বিষয় ছিল বলে মন্তব্য করেন সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিন্তু নির্বাচনে বিজয় লাভের পর তারা সেই মীমাংসিত বিষয়টিকে একধরনের গায়ের জোরে অবজ্ঞা করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের জনগণ এগুলো দেখছে। নব্বইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের পর ত্রিদলীয় জোটের রূপরেখায় সবাই সম্মত হওয়ার পর এই বিএনপি সরকার গঠনের পর সেটাকে অবজ্ঞা করেছিল। সেই প্রতিশ্রুতি তারা মানেনি। তার ফলাফল হয়েছিল, তারা বেশি দিন সংসদীয় রাজনীতিতে থাকতে পারেনি, বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদের দিকে গিয়েছিল। সেই ইতিহাস থেকে তারা শিক্ষা নেবে নাকি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করবে সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।’

বিএনপির দিক থেকে সংবিধানের দোহাই দেওয়া সম্পর্কে এই তরুণ সংসদ সদস্য বলেন, সংবিধানে অনেক কিছুই আছে, যেটা এই সরকার করছে না। এখানে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টাঙানোর আইন আছে। এ রকম অনেকগুলো আইন ও বাস্তবতা আছে। সেগুলো কি এই সরকার করছে বা অন্তর্বর্তী সরকার করেছে? ফলে অন্তর্বর্তী সরকার, ঐকমত্য কমিশন, এই নির্বাচন, এই সরকার—সবকিছুকে সংবিধান দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। এটা একটা গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হয়েছে, যদিও সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের অধীনেই হয়েছে। তবে গণ–অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটটা মাথায় না রাখলে কোনো কিছুর সমাধান সম্ভব নয়। আমরা মনে করি, গণ–অভ্যুত্থানই সংস্কারের বৈধতা। এটি অন্তর্বর্তী সরকার এবং এই নির্বাচনেরও বৈধতা।

Read full story at source