সাভারে ভাড়া বাসা থেকে জাবি ছাত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

· Prothom Alo

ঢাকার সাভারে ভাড়া বাসা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে ক্যাম্পাস সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় ওই বাসা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।  

মৃত শারমীন জাহান (২৩) বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শারমীনের স্বামী ফাহিম আল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তিনি ঢাকা কলেজের ছাত্র। শারমীন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তেতৈয় গ্রামের শাহ জাহান মোল্লার মেয়ে।

Visit truewildgame.online for more information.

স্বামী ফাহিম আল হাসানের বরাত দিয়ে আশুলিয়া থানার পুলিশ জানায়, আজ সকালে বাসা থেকে বের হয়ে যান ফাহিম। বেলা দুইটার পর তিনি বাসায় এসে বাসার দরজা বাইরে থেকে বন্ধ দেখতে পান। ভেতরে গিয়ে তিনি শারমীনকে রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি আশপাশের লোকজনের সহায়তায় শারমীনকে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভাড়া বাসার মালিক আব্দুল্লাহ সোহরাওয়ার্দী প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকালে আমি অফিসে গিয়েছিলাম। বেলা তিনটার দিকে বাসায় নিচে এসে শুনতে পাই ছেলেটি (ফাহিম আল হাসান) বলতেছে “চোখ খোলো”, “চোখ খোলো”। এরপর আমি ঘরের ভেতরে যাই। তখন সে বলে, “আঙ্কেল, শারমীনকে হাসপাতালে নিলে ভালো হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে তাঁকে এনাম মেডিকেলে নেওয়া হয়। তবে বাসা থেকে মেয়েটার দেহ নিথর ছিল। কোনো জ্ঞান ছিল না।’

আব্দুল্লাহ সোহরাওয়ার্দী জানান, পাঁচ–ছয় মাস আগে বাড়ির নিচতলার এক কক্ষ ভাড়া নেন শারমীন ও ফাহিম আল হাসান।

এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এনামুল হক মিয়া বলেন, বিকেল ৪টা ২২ মিনিটের দিকে মৃত অবস্থায় শারমীন জাহানকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর মাথায় ক্ষতচিহ্ন ছিল। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলে তারা মরদেহ নিয়ে যায়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) আবদুর রশিদ জিতু বলেন, ‘ছবিতে আমরা দেখেছি শারমীনের মাথা থেঁতলানো; গায়ে অসংখ্য আঁচড়ের দাগ। তাঁর স্বামী ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে এ ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কে বা কারা জড়িত, সেটি বের করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যু কখনোই কাম্য নয়। এ ঘটনায় আমরা বাকরুদ্ধ, স্তম্ভিত। এ ঘটনার জন্য যিনি বা যারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে বলা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা পুলিশকে সহায়তা করছেন।’

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ফাহিম আল হাসান দাবি করছেন, তিনি সকাল ১০টায় বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন। দুপুরে ফিরে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় স্ত্রীর নিথর দেহ দেখতে পান। তাঁর বক্তব্য যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দ্রুতই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বের করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Read full story at source