তিন দিনে ৫০ কোটি টাকার বেশি অফার এসেছে: আমির হামজা
· Prothom Alo

কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ বন্ধ রাখতে চাওয়া লোকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকার ঘুষের প্রস্তাব পাচ্ছেন বলে জানালেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আমির হামজা। তিনি বলেছেন, ‘প্রায় সব মিলিয়ে শুধু মেডিক্যাল কলেজের জন্য ৫০ কোটি টাকার ওপরে অফার হয়েছে এই তিন দিনে। তা–ও কেউ জানবে না, শুধু আল্লাহ বাদে। আমি বলেছি, ৫০ কোটি কেন, ১০০ কোটি, পুরা কুষ্টিয়া লিখে দিলেও আমি আমার জায়গা থেকে একচুল নড়ব না।’ কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এই পাঁচ বছর যদি দায়িত্বে থাকি, পাঁচটা টাকা যেন না বাড়ে, সেই রকমভাবে চলতে চাই।’
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহরে একটি প্রতিষ্ঠানের ইফতার মাহফিল ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির হামজা এ কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে মন্তব্যে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল বন্ধ রাখতে টাকা দিতে চাওয়া লোকদের নাম–পরিচয় প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
Visit chickenroadslot.lat for more information.
অনুষ্ঠানে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘আমি মিডিয়ার মাধ্যমে আমার আসনের মানুষ, বাংলাদেশের মানুষসহ বিশ্বের মানুষকে জানাতে চাই, যেহেতু আজ তিন দিন ধরে রাতে আমাকে অনেকে ঘুমাতে দিচ্ছেন না। কানাডা থেকে, সিঙ্গাপুর থেকে, মালেশিয়া থেকে আর ইন্ডিয়া তো আছেই, আর আমাদের এলাকার আসনের ভেতরেই বহু মানুষ এই তিন দিনেই যেহেতু একটা উদ্যোগ নিয়েছি, তো এই কারণে এরা নড়িচড়ে বসিছে। আমরা চাচ্ছি, কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজটা আবার চালু হোক।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) তিন ঘণ্টার বৈঠক ছিল ডিসিসহ দায়িত্বে থাকা মানুষদের সাথে এবং এটা (কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ) খোলাও সম্ভব। দুই বছর আগে খোলা সম্ভব ছিল। যারা দায়িত্বে ছিল, তারা এদিক–ওদিক করে এটা খুলতে পারে নাই এবং কেন পারে নাই, আমি এই তিন দিনে বুঝতেছি।’
আমির হামজা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমার আশপাশে আমার আত্মীয় পরিচয়ে হোক, দলীয় পরিচয়ে হোক, আর বিরোধী যাঁরা আছেন, কেউ যদি আমার নামে কিছু করতে চান, আমি যদি জানতে পারি, তার কিন্তু খবর করে ফেলব। এ জন্য ওই কাজ কেউ ভুলেও করবেন না। জায়েজ বাদ দিয়ে নাজায়েজ কোনো পথে আমরা যেতে চাই না। আমরা এগিয়ে যেতে চাই সবাইকে নিয়ে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব অন্যায়, হারাম কাজ বাদ দিয়ে অন্তত বৈধ পথে চলতে থাকেন। একটা মানুষের চলতে খুব বেশি লাগে না। এই যে আপনারা যারা শ্রমিক, অল্পতেই তুষ্ট হয়ে যান, অনেক আহামরি কিছু লাগে না। সুতরাং যাদের আহামরি কিছু লাগে, তারা এ জেলা থেকে, এ আসন থেকে বের হয়ে অন্য কোনো জায়গায় করবেন। আমরা চেষ্টা চালাব সঠিক থাকার।’
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুষ্টিয়া শহর শাখার সভাপতি লাকনুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও যশোর কুষ্টিয়া অঞ্চল টিম সদস্য খন্দকার এ কে এম আলী মুহসীন।