‘মব কালচার শেষ’ যেন কথার কথা না হয়
· Prothom Alo

অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারলেও দেশে বিশৃঙ্খলা দূর করতে পারেনি।
Visit catcrossgame.com for more information.
বিএনপি সরকার আসার পর মবের ঘটনা বাংলাদেশ ব্যাংকে।
নতুন সরকার আসার পর বিভিন্ন পদে বদল আসবে, নতুন লোক বসবে—এটা অস্বাভাবিক নয়। কারণ, রাজনৈতিক সরকারের নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে, কর্মসূচি থাকে, ইশতেহার থাকে। সেই ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য সরকার নিজেদের পছন্দমতো ‘উপযুক্ত’ লোক বসায়। লোকটি উপযুক্ত কি না, সেটা নিয়ে নানাজনের নানা মত থাকতে পারে। কিন্তু পরিবর্তন নিয়ে কারও প্রশ্ন নেই।
বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের বিপুল সমর্থন (২০৯ আসন) নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। জনগণের প্রতি দলটির অঙ্গীকারের লিখিত দলিল হলো নির্বাচনী ইশতেহার।
এই বিশ্লেষণ লেখার জন্য বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার থেকে একটি অঙ্গীকারের কথা সামনে আনা যায়। সেটি ‘সর্বস্তরে আইনের শাসন বাস্তবায়নের’ অঙ্গীকার। ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘বিএনপি আইনের শাসন বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একই সাথে বিএনপি মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের মর্যাদায় বিশ্বাসী।’
১৮ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিএনপির নীতিনির্ধারকদের একজন সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মব কালচার শেষ।’
এটা গেল দলের ইশতেহারের লিখিত অঙ্গীকার। এবার দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে কী বলেছিলেন, তা–ও আরেকবার স্মরণ করা যাক। তিনি বলেছিলেন, ‘দলীয় বা রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি অথবা জোরজবরদস্তি নয়; আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।’
১৮ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিএনপির নীতিনির্ধারকদের একজন সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মব কালচার শেষ।’
গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারীরাবিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার এবং দলের নেতাদের বক্তব্য মানুষকে আশান্বিত করেছিল। ‘বিশৃঙ্খলার কাল’ অবসান হবে বলে বহু মানুষ উচ্ছ্বসিত হয়েছিল। কিন্তু দেখা গেল, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ৯ দিন পরই মবের (উচ্ছৃঙ্খল একদল মানুষের তৈরি বিশৃঙ্খলা) ঘটনা ঘটল, তা–ও বাংলাদেশ ব্যাংকে, যেটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি এবং সেটিকে রাজনৈতিক বিতর্ক ও বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
‘ঘর পোড়া’ মানুষ এবং মব
‘ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়’—এই বাংলা প্রবাদ এই সময়ের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। বিগত ১৮ মাস বাংলাদেশের মানুষ বহু ‘ঘর পোড়া’, অর্থাৎ বর্তমান বাস্তবতায় মবের ঘটনা দেখেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিন দিন দেশে সরকার ছিল না। পুলিশি কার্যক্রম ছিল না। ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর শুরু হয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় পদগুলোতে বদল। কেউ কেউ পালিয়ে যান। কাউকে কাউকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়।
কিন্তু দেখা গেল, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ৯ দিন পরই মবের (উচ্ছৃঙ্খল একদল মানুষের তৈরি বিশৃঙ্খলা) ঘটনা ঘটল, তা–ও বাংলাদেশ ব্যাংকে, যেটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি এবং সেটিকে রাজনৈতিক বিতর্ক ও বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতিদের পদত্যাগ করানো (১০ আগস্ট ২০২৪), সচিবালয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ঢুকে পড়া ও ‘অটোপাস’ দেওয়ায় বাধ্য করা (২০ আগস্ট ২০২৪), আনসারদের সচিবালয় ঘেরাও (২৬ আগস্ট ২০২৪), রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও তা গুঁড়িয়ে দেওয়া (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫), কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ (৩০ আগস্ট ২০২৫) প্রভৃতি ঘটনা রয়েছে। এর বাইরে বহু প্রতিষ্ঠানে ও শিক্ষালয়ে মব তৈরি করে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।
সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভবনের নিচে আর এইচএসসি পরীক্ষা না দেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভধানমন্ডি ৩২ নম্বর ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য নেওয়া হয়েছে এই ক্রেনঢাকার কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবারও হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছেপিটিয়ে হত্যার ঘটনা কত, তার হিসাব রেখেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। তাদের হিসাবে, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে ‘মব সন্ত্রাসে’ নিহত হয়েছেন ২৯৩ জন।
গত ১৮ ডিসেম্বর পরিকল্পিত ও সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয় প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার। দেশের শীর্ষ দুই সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। হামলা হয় ছায়ানটে। এবং পরদিন আগুন দেওয়া হয় উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর কার্যালয়ে।
সংঘবদ্ধ আক্রমণকারীরা রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ও কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ে ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর পর অগ্নিসংযোগ করেঢাকার ধানমন্ডিতে ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে রাতে ভাঙচুর চালানোর আগে ভবনের সামনে আগুন ধরানো হয়রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কারও কারও মতে, অধ্যাপক ইউনূসের সরকার অর্থনীতিকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারলেও দেশে বিশৃঙ্খলা দূর করতে পারেনি। বরং সরকারের কারও কারও সমর্থনসূচক বক্তব্য মবকারীদের উৎসাহিত করেছে। একের পর এক ঘটনার পর মানুষ বুঝতে পারে, সরকার আসলে এ ধরনের পরিস্থিতি পুরোপুরি সামলাতে পারবে না। তখন নির্বাচিত শক্তিশালী সরকারের প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে এবং রাজনৈতিক দলের বাইরেও বিভিন্ন মহল থেকে নির্বাচনের দাবি জোরালো হয়।
বিষয়টি নিয়ে অবশ্য আগেই অন্তর্বর্তী সরকারকে কেউ কেউ সতর্ক করেছিলেন। তাঁদের একজন অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর তিনি বলেছিলেন, অর্থনৈতিক স্বস্তি ও নিরাপত্তা দেওয়া না গেলে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার সফল হবে না।
অন্তর্বর্তী সরকার একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিয়ে বিদায় নিয়েছে। সঙ্গে সংস্কারের বিস্তৃত ফিরিস্তি তুলে ধরেছে। তবে সংস্কার কতটা সফল হয়েছে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েই গেছে।
নতুন সরকার এবং মব
বিএনপি সরকার আসার পর মবের ঘটনা দেখা গেল বাংলাদেশ ব্যাংকে। নতুন সরকার বিভিন্ন পদে পরিবর্তন করলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে পরিবর্তন করবে, এমন ইঙ্গিত ছিল না। গভর্নর আহসান এইচ মনসুর স্বাভাবিক সময়ের মতোই দায়িত্ব পালন করছিলেন।
২৩ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে গিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন আহসান এইচ মনসুর। বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ব্যাংকিং খাতের সংস্কারকাজ অব্যাহত রাখবে বিএনপি সরকার, এই আশ্বাস তিনি পেয়েছেন। ধারণা করা যায়, বৈঠকে যদি ইঙ্গিত দেওয়া হতো যে তাঁকে (আহসান এইচ মনসুর) সরে যেতে হবে, তিনি পদ ছাড়তে দ্বিধা করতেন না।
সরকার আহসান এইচ মনসুরকে সম্মানজনকভাবে বিদায় দিতে পারত। তাঁকে পদত্যাগের সুযোগও দেওয়া যেত। পদত্যাগের ইঙ্গিত দেওয়ার পর তিনি যদি পদ আঁকড়ে থাকতে চাইতেন, তাহলে নিজেই বিতর্কিত হতেন। সেটা হয়নি। বরং, সরকার একটি স্বাভাবিক বদল প্রক্রিয়ায় বিতর্কের উপাদান যুক্ত করে সমালোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।
আহসান এইচ মনসুর বুধবার সকালেও একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘পদত্যাগ করতে আমার মাত্র দুই সেকেন্ড সময় লাগবে।’
আহসান এইচ মনসুরের বিদায়টি ভালো হলো না। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) কাজ করা এই অর্থনীতিবিদ নিজ নামে সুপরিচিত। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি সর্বশেষ ছিলেন সুপরিচিত গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক।
বাংলাদেশ ব্যাংকে নিজের ১৮ মাসের মেয়াদে আহসান এইচ মনসুর বেশ কিছু সফলতা অর্জন করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে
এক. ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের ভুগতে হয়েছে। সেই ডলার–সংকট কাটিয়ে মুদ্রাটির দাম স্থিতিশীল করা।
দুই. বৈদেশিক মুদ্রার মজুত স্বস্তিজনক অবস্থায় নিয়ে আসা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন (২ হাজার ৫৯২ কোটি) ডলার। গত মঙ্গলবার দিন শেষে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন (৩ হাজার ৫০৪ কোটি) ডলার। সাধারণত তিন মাসের আমদানির সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা থাকলে তা স্বস্তিদায়ক হিসেবে গণ্য হয়। বাংলাদেশের এখন আছে পাঁচ থেকে ছয় মাসের আমদানির সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার মজুত।
তিন. লুকিয়ে রাখা খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র বের হয়েছে আহসান এইচ মনসুরের সময়ে। তিনি খেলাপি ঋণের সংজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতের ৩৬ শতাংশ বা সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি।
চার. অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে টাকা ফেরত দিতে না পারা ইসলামি ধারার পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া ছয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পাঁচ. খেলাপি ঋণের বড় অঙ্কের অর্থ পাচার হয়ে গেছে। এসব অর্থ উদ্ধারে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে ব্যাংকগুলো।
ছয়. আহসান এইচ মনসুরের সময়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের পাশাপাশি এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, জেমকন গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, সিকদার গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের নামে লুট হওয়া অর্থ দেশে ও বিদেশ থেকে উদ্ধারে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সাত. বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা বাড়ানো, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক খাতের সংস্কারে বিস্তৃত উদ্যোগ নিয়েছিলেন আহসান এইচ মনসুর।
আট. মূল্যস্ফীতি ১২ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশের নিচে নেমেছে আহসান এইচ মনসুরের সময়ে। যদিও তা যথেষ্ট নয়।
নয়. বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকিং চ্যানেলে আনা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সব মিলিয়ে দেশে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ২২ শতাংশ বেশি।
দশ. ব্যাংকের বেনামি ঋণ বন্ধ হয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতি কঠিন হয়েছে।
শক্ত ব্যবস্থা নেওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে এবং বাইরে অনেকেই আহসান এইচ মনসুরের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। ব্যাংক হাতছাড়া হওয়া একটি মহলও তাঁর বিরুদ্ধে ছিলেন। তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পর বিতর্কিত ব্যক্তির খুশি প্রকাশিত হয়েছে ফেসবুক স্ট্যাটাসে।
সরকার আহসান এইচ মনসুরকে সম্মানজনকভাবে বিদায় দিতে পারত। তাঁকে পদত্যাগের সুযোগও দেওয়া যেত। পদত্যাগের ইঙ্গিত দেওয়ার পর তিনি যদি পদ আঁকড়ে থাকতে চাইতেন, তাহলে নিজেই বিতর্কিত হতেন। সেটা হয়নি। বরং, সরকার একটি স্বাভাবিক বদল প্রক্রিয়ায় বিতর্কের উপাদান যুক্ত করে সমালোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।
সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো, বুধবার গভর্নরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে মব তৈরি করে হেনস্তা করা হয়েছে। আহসান উল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা। তাঁকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংস্কারের কাজ শুরু করেছিলেন আহসান এইচ মনসুর। তিনি কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে পরীক্ষা পদ্ধতি চালুসহ নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ জন্য অনেক কর্মকর্তা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন।
দলটি ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় মব তৈরি করা হলো। এখন মানুষ অপেক্ষায়, কখন সরকার আইনি ব্যবস্থা নেবে। ‘মব কালচার শেষ’, এটা যেন কথার কথা না হয়।
মানুষ অপেক্ষায়
দাসপ্রথা বিলোপে মুখ্য ভূমিকা পালনকারী যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট (১৮০৯-১৮৬৫) আব্রাহাম লিংকন ২৮ বছর বয়সে ১৮৩৮ সালে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে তরুণদের উদ্দেশে একটি ভাষণ দিয়েছিলেন। তখন যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক মবের ঘটনা ঘটছিল। লিংকন বলেছিলেন, এমন কোনো অভিযোগই নেই, যার প্রতিকার মবের মাধ্যমে করা যুক্তিযুক্ত। অর্থাৎ, ১৮৮ বছর আগে তিনি আইনের শাসন এবং যেকোনো অভিযোগের বিচার রাষ্ট্রীয় আইনি প্রক্রিয়ায় করার কথা বলেছেন।
এটা ২০২৬ সাল। বিএনপি সরকার তার ইশতেহারে এবং নেতারা তাঁদের বক্তব্যে আইনের শাসনের কথা বলেছেন, মবের অবসানের কথা বলেছেন। দলটি ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় মব তৈরি করা হলো। এখন মানুষ অপেক্ষায়, কখন সরকার আইনি ব্যবস্থা নেবে। ‘মব কালচার শেষ’, এটা যেন কথার কথা না হয়।