‘আরেক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে’ সন্দেহে স্কুলছাত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সিয়াম: পুলিশ

· Prothom Alo

রাজধানীর হাজারীবাগে অষ্টম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক সিয়াম হোসেন ওরফে ইমনকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম জানিয়েছেন, অন্য এক যুবকের সঙ্গে ওই ছাত্রীর সম্পর্ক রয়েছে, এমন সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন তিনি।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

গতকাল বুধবার রাতে মুঠোফোনে হাজারীবাগের চরকঘাটা সনাতন গড় মসজিদের পাশে ডেকে নিয়ে ওই ছাত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজধানীর মিন্টো রোডের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. মাসুদ আলম বলেন, ওই ছাত্রী তার মা-বাবার সঙ্গে চরকঘাটা হায়দার হোটেলের পাশের একটি গলিতে ভাড়া বাসায় থাকত।

জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেন, তিনি চরকঘাটায় একটি বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক। চার বছর আগে তিনি ও ওই ছাত্রী রাজধানীর রায়েরবাজার স্কুলে পড়তেন। এ সময় তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক হয়। সম্প্রতি ওই ছাত্রী তাকে এড়িয়ে চলা শুরু করে এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এরই মধ্যে সিয়াম খবর পান, ওই ছাত্রী আরেক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এর অংশ হিসেবে সিয়াম জরুরি কথা আছে বলে গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই ছাত্রীকে সনাতন গড়ে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন।

রাজধানীর হাজারীবাগে অষ্টম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি এবং ঘাতকের পরনের গেঞ্জি, প্যান্ট ও মুঠোফোন  

জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম আরও বলেন, ওই ছাত্রী তার মাকে কাজ আছে বলে বাসা থেকে বের হয়। তখন তার মা সঙ্গে তার ছোট ভাইকেও যেতে বলে। পথে ওই ছাত্রীর ভাই মসজিদে নামাজ পড়তে যায়। এ সময় হায়দার হোটেলের পাশের গলিতে আসামাত্র সিয়াম ওই ছাত্রীকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে স্বজনেরা ওই ছাত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে রাত সোয়া ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদ আলম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সিয়ামকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে কাঁঠালবাগান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি এবং পরনের গেঞ্জি ও প্যান্ট এবং মুঠোফোন জব্দ করা হয়। তিনি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

অভিযান পরিচালনাকারী হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ওই ছাত্রীর বাবা একজন মাছ ব্যবসায়ী। এক ভাই এক বোনের মধ্যে ওই ছাত্রী বড়। সিয়াম রায়েরবাজার স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে। তার বাড়ি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি থানার মহিশানি গ্রামে। সিয়াম তাঁর মাকে নিয়ে হাতিরঝিল থানা এলাকার উলন রোডে থাকতেন।

Read full story at source