স্বাদ নয়, গেলার সুখ: বেশি খাওয়ার নতুন ব্যাখ্যা

· Prothom Alo

খাবারের স্বাদ, গন্ধ, ক্ষুধা এসবই আমাদের খেতে বসায়। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, প্রথম কামড়ের পর বারবার খেতে ইচ্ছে হওয়ার পেছনে স্বাদ নয়, বড় ভূমিকা রাখে গিলে ফেলার অনুভূতি।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, খাবার খাদ্যনালিতে নামার মুহূর্তেই মস্তিষ্কে ‘ফিল-গুড’ হরমোন সেরোটোনিন নিঃসৃত হয়, আর সেই সুখানুভূতিই আমাদের আরও খেতে উৎসাহ দেয়।

গবেষণা কী বলছে?

কারেন্ট বায়োলোজি জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় ফল মাছির লার্ভার স্নায়ুতন্ত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, খাদ্য যখন খাদ্যনালি (esophagus) দিয়ে নেমে যায়, তখন সেখানে থাকা মেকানোসেন্সরি নিউরন সক্রিয় হয়। এই নিউরনগুলো মস্তিষ্কের কিছু সেরোটোনার্জিক নিউরনকে সংকেত পাঠায়। ফলে গিলতে থাকার মোটর সিগন্যাল আরও শক্তিশালী হয় এবং মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নিঃসরণ বাড়ে। সহজ ভাষায় খাবার মুখ পেরিয়ে খাদ্যনালিতে নামলেই মস্তিষ্ক ছোট্ট এক “সুখের সিগন্যাল” দেয়। আর আমরা অজান্তেই সেই অনুভূতিটা আবার পেতে চাই।

স্বাদ নয়, ‘গেলা’ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

প্রথম কামড়টা আসে স্বাদ-গন্ধ-ক্ষুধার টানে। কিন্তু তার পরের কামড়গুলো নিয়েই এই গবেষণা। গবেষকদের মতে, সেগুলো অনেকটাই চালিত হয় গিলতে থাকার আনন্দে। তাই পেট ভরে গেলেও হাত চলে যায় আরেক চামচ ভাতের দিকে। এটি কেবল ইচ্ছাশক্তির বিষয় নয়, এটি মস্তিষ্কের রসায়ন।

‘স্ট্রেচ রিসেপ্টর’ ও ইটিং ডিসঅর্ডার

গবেষণায় খাদ্যনালিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুসংকেতের কথা বলা হয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে স্ট্রেচ রিসেপ্টর। খাবার নামার সময় এই রিসেপ্টর মস্তিষ্ককে জানায় খাদ্য প্রবেশ করছে। এই সিস্টেমে ত্রুটি থাকলে তা অ্যানোরেক্সিয়া বা বিঞ্জ ইটিং-এর মতো ইটিং ডিসঅর্ডারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। গবেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে এই পথ বোঝা গেলে এমন চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি হতে পারে, যা এই রিসেপ্টরগুলোকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করবে।

গবেষণা বলছে, কাউকে “নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারো না” বলে দোষারোপ করার চেয়ে বোঝা দরকার—আমাদের মস্তিষ্ক এভাবেই কাজ করে। এই উপলব্ধি আমাদের নিজের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হতে শেখায়।

তাহলে করণীয় কী?

স্নায়ুবিজ্ঞানের দিক থেকেও কিছু সহজ অভ্যাস কার্যকর হতে পারে—

ধীরে খাওয়া

ছোট কামড় নেওয়া

ভালো করে চিবানো

সচেতনভাবে খাওয়া

লিকুইড ক্যালোরি (সফট ড্রিংক, জুস) কমানো, কারণ এগুলো দ্রুত গেলা যায়
আমরা ভাবি, খাওয়াটা পুরোপুরি ইচ্ছার বিষয়। কিন্তু শরীর ও মস্তিষ্কের জটিল প্রক্রিয়া আমাদের আচরণকে নিঃশব্দে প্রভাবিত করে। গিলে ফেলার সেই ছোট্ট সুখানুভূতিই হয়তো আমাদের বারবার প্লেটের দিকে হাত বাড়াতে বাধ্য করে। পরেরবার বেশি খেয়ে ফেললে নিজেকে দোষ দেওয়ার আগে মনে রাখতে পারেন আপনার মস্তিষ্ক হয়তো শুধু আরেকটু “ভালো লাগা” খুঁজছিল।

ছবি: এআই

Read full story at source