সাত বছর পর শীর্ষে সিটি ব্যাংকের শেয়ারদর, তবুও পিই রেশিও ৫–এর নিচে
· Prothom Alo
সাত বছর পর আবার সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে দেশের বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংকের শেয়ারদর। আজ মঙ্গলবার লেনদেন শুরুর প্রথম এক ঘণ্টায় প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্যাংকটির শেয়ারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ টাকায়। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের পর এটিই ব্যাংকটির শেয়ারের সর্বোচ্চ বাজারমূল্য।
Visit forestarrow.rest for more information.
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকের আরও একটি আর্থিক বছর শেষ হয়েছে গত ডিসেম্বরে। ফলে সামনে একে একে ব্যাংকের গত বছরের লভ্যাংশের ঘোষণা আসবে। তাই যেসব ব্যাংকের গত বছর ব্যবসা ও মুনাফায় ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে, সেসব ব্যাংকের প্রতি ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। অর্থাৎ ভালো মৌলভিত্তির ব্যাংক হিসেবে যেসব ব্যাংক নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পেরেছে, সেসব ব্যাংকের শেয়ারের কদরও বেড়েছে বিনিয়োগকারীদের কাছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বাজারে সর্বশেষ ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সিটি ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ৩৬ টাকা ৩০ পয়সা। এরপর তা কমতে শুরু করে। কমতে কমতে এক পর্যায়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তা ২১ টাকায় নেমে আসে। ২০২৪ সালের জুনে সেই দাম আরও কমে নেমে আসে ১৭ টাকায়। সেখান থেকে দাম কিছুটা বেড়ে ওই বছরের আগস্টে সর্বোচ্চ ২৫ টাকায় ওঠে। এরপর আবার কমতে শুরু করে। তাতে গত বছরের মে মাসে সিটি ব্যাংকের শেয়ারের দাম কমে আবারও ১৮ টাকায় নেমে আসে। এরপর আবার তা বাড়তে শুরু করে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সিটি ব্যাংকের শেয়ারের দাম বেশি বাড়তে দেখা যায় গত এক মাসে। এই এক মাসে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে সাড়ে ৬ টাকা বা ২৫ শতাংশের বেশি। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ জানুয়ারি ব্যাংকটির প্রতিটি শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল সাড়ে ২৫ টাকা। আজ মঙ্গলবার লেনদেনের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ টাকায়। এদিন লেনদেনের প্রথম এক ঘণ্টায় ব্যাংকটির শেয়ারের দাম আগের দিনের চেয়ে প্রায় দেড় টাকা বা সাড়ে ৪ শতাংশ বেড়েছে।
ডিএসইতে আজ প্রথম এক ঘণ্টায় লেনদেনের শীর্ষস্থানে ছিল ব্যাংক। এ সময়ের মধ্যেই সিটি ব্যাংকের ৪০ কোটি টাকার সমমূল্যের শেয়ারের হাতবদল হয়, যা ছিল ডিএসইর ওই সময় পর্যন্ত মোট লেনদেনের ১৪ শতাংশ।
১৯৮৭ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া এই ব্যাংক সর্বশেষ ২০২৪ সালের জন্য শেয়ারধারীদের ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। যার মধ্যে ছিল সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ও সাড়ে ১২ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। গত এক মাসে ব্যাংকটির শেয়ারের দাম ২৫ শতাংশের বেশি বাড়লেও সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এটির শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও এখনো রয়েছে ৫ শতাংশের নিচে।
শেয়ারবাজার বিশ্লেষকদের মতে, তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানির ব্যবসায় ভালো প্রবৃদ্ধি রয়েছে, সেসব কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পিই রেশিও যত কম বিনিয়োগ ততই কম ঝুঁকিপূর্ণ।