সব প্রতিনিধিকে না জানিয়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন ঘিরে ডাকসুতে অসন্তোষ
· Prothom Alo

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) শীর্ষ নেতারা। তবে সব প্রতিনিধিকে না জানিয়ে এ শ্রদ্ধা নিবেদন ঘিরে ডাকসুর অভ্যন্তরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা ও কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত হওয়া ডাকসুর সদস্য উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়াকেও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি বলে প্রথম আলোকে জানান তিনি।
Visit forestarrow.help for more information.
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ফাতিমা তাসনিম লেখেন, ‘ডাকসু একশো একটা সমস্যায় জর্জরিত থাকে। যেহেতু একচেটিয়া বিজয় ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে, রীতিমতো পদে পদে বাধা তৈরি করা হয়।’
ফাতিমা তাসনিম লেখেন, ‘শহীদ মিনারে প্রথম প্রহরে ডাকসু কখন ফুল দিতে যাবে—প্রশ্ন দুইবার করার পর কল দিয়ে আমাকে জানানো হয়, সিনেট সদস্যরা যাবে কেবল রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে।...ডাকসুর পক্ষ থেকে ফুল দিবে সিনেটের সদস্যরা মিলে—এমন প্ল্যান হলে গ্রুপে জানাতেন। অথবা সেখানে পরে সকলের জন্য এন্ট্রি এক্সেস থাকলে বাকিদের গ্রুপে বলে দিতেন যে এই টাইমে আমরা ফুল দিব, উপস্থিত থাকবেন। সমস্যা তো ছিল না। আপনারা ডাকসুর নাম না নিয়ে “সিনেট সদস্যবৃন্দ” ব্যানারে গেলেও মানুষ বাকি সম্পাদকদের দোষ খুঁজতো না।’
ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক আরও লেখেন, ‘একে তো প্রশাসনিক কারণে সকলের উপর চাপ। সেই পথ যখন স্বয়ং ডাকসু প্রতিনিধিরা সুগম করে, তখন বাকিদের যাওয়ার জায়গা থাকে না। এইসব কিছু গ্রুপে বলে আলাপ করে মিটানো যায়। গ্রুপে মিটিংয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর ক্যাচাল লাগার আগে কেউ দেয় না।’
ডাকসুর শীর্ষ নেতাদের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা লেখেন, ‘হেমা চাকমা (সদস্য), ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্বমিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা (কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে ছালমা) এবং বাকি আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হা হা!’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ প্রথম আলোকে বলেন, শুধু ডাকসুর পাঁচ সিন্ডিকেট সদস্যের জন্য প্রক্টর অফিস থেকে প্রবেশ পাস দেওয়া হয়েছিল, অন্য সদস্যদের জন্য দেওয়া হয়নি। এ বিষয়টি ডাকসুর অন্য সদস্যরা জানতেন না দেখে কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন।